...
...
Next Story

US-Iran Conflict: সৌদির ট্যাঙ্কারে হামলা হুথিদের, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, কুয়েতে ড্রোন হানা ইরানের: এক নজরে আপডেট

US-Iran Conflict: হুথিদের দাবি, তারা একই সময়ে ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে ট্যাঙ্কার দুটিতে হামলা চালিয়েছে। এতে জাহাজে বড় ধরনের আগুন লাগে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

Published on: Jul 23, 2026, 13:36:41 IST
Advertisement

US-Iran Conflict: লোহিত সাগরে সৌদি আরবের মালিকানাধীন দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। জাহাজ দুটির নাম ‘এনসেলিয়া’ এবং ‘লায়লা।’ সৌদির সাধারণ পরিবহণ কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সে দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ।

এক নজরে মধ্যপ্রাচ্যের আপডেট (REUTERS)
এক নজরে মধ্যপ্রাচ্যের আপডেট (REUTERS)

হুথিদের দাবি, তারা একই সময়ে ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে ট্যাঙ্কার দুটিতে হামলা চালিয়েছে। এতে জাহাজে বড় ধরনের আগুন লাগে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। গোষ্ঠীটি বলেছে, এটি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের ‘যেমন কর্ম, তেমন ফল’ নীতির অংশ। হুথিদের কথায়, গত ১২ বছর ধরে সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। তাই এখন ইয়েমেনও একইভাবে জবাব দিচ্ছে। অন্যদিকে, টানা ১২ তম রাতেও ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এই আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এখন ১০০ ডলারের কাছাকাছি চলে গিয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৮৮ ডলার অতিক্রম করেছে।

টানা ১২ তম রাতে ইরানে হামলা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান হরমুজ প্রণালীতে কোনও জাহাজে হামলা চালালে জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সেতু কিংবা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক কাঠামোতে হামলা চালাবে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘এখন থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যখনই হরমুজ প্রণালীতে কোনও জাহাজের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনও অস্ত্র দিয়ে হামলা চালাবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাজধানী তেহরানের ভেতরে বা আশপাশে অবস্থিত একটি সেতু অথবা একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করবে।’ এর আগেও ট্রাম্প ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন, এমনকী দেশটির সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। তবে বুধবারের এই বক্তব্য আগের হুমকির তুলনায় আরও সুনির্দিষ্ট।

ইরানের পাল্টা জবাব

বিপরীতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ‘চোখের বদলে চোখ’ সামরিক নীতি বাস্তবায়নের পাল্টা হুমকি দিয়েছেন। আব্বাস আরাঘচি জানান, ওয়াশিংটন যদি প্রতিটি জাহাজে হামলার জবাবে একটি করে সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করে, তাহলে ইরানও একইভাবে জবাব দেবে। এক্সে পোস্টে আরাঘচি বলেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা নীতি স্পষ্ট-চোখের বদলে চোখ। আমাদের কাঠামো-সহ ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনও আগ্রাসনের জবাবে আমরা শক্তিশালী ও সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়া জানাব। এই আগ্রাসনে যে কোনও ধরনের সাহায্য যারা করবে, তাদেরও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধরে নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সে দেশের সামরিক বাহিনীকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুমকির ফলে এই যুদ্ধের আরও বিস্তার ঘটবে।

ইরানের মার্কিন হামলায় নিহত ২

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র টানা ১২তম রাতে ইরানে হামলা চালানোর পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, টানা ১২ দিনের সংঘাতের মধ্যে বৃহস্পতিবার বুশেহর-সহ একাধিক স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুশেহর প্রদেশের একটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। প্রদেশটির উপ-গভর্নরের বরাতে জানানো হয়েছে, একই দিনে সেখানে দু'দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এদিকে, বুশেহরের পর খুজেস্তান প্রদেশের আন্দিমেস্ক শহরের উপকণ্ঠেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর প্রকাশ করেছে আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ। এর আগে ইরাক-ইরান সীমান্তের সালামচেহ সীমান্ত ক্রসিংয়ে হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কুয়েতে ড্রোন হামলা ইরানের

কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পশ্চিম কুয়েতের ক্যাম্প দোহা ঘাঁটির গোলাবারুদের ডিপো ও স্থলবাহিনীর রসদ সরঞ্জাম লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'বারবার আগ্রাসনের' জবাব হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ক্যাম্প দোহায় থাকা গোলাবারুদের ডিপো এবং স্থলবাহিনীর কমান্ডের লজিস্টিকস কাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ ঐক্যের সঙ্গে শত্রুর যেকোনো নতুন ষড়যন্ত্র বা আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত।' ইরানের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন এবং রসদ সরবরাহে ক্যাম্প দোহা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা, সে বিষয়ে ইরান বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe