সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধের কাছে আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় শনিবার ভয়াবহ আগুন লাগাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। দ্রুত সেখানে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজে নামে দমকল বাহিনী। অ্যাম্বুল্যান্স এবং পুলিশের গাড়িও ঘটনাস্থলের কাছে দেখা গিয়েছে। তবে এই আগুনের পিছনে হামলা ছিল কি না, তা এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে জানায়নি সৌদি সরকার।

অন্য দিকে, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারাই রিয়াধের ওই তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে সৌদির তেল পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। তাঁদের দাবি, হামলার ফলেই সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলিতে আগুন ধরে যায়।
ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে একাধিক ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে। তাতে আরামকোর শিল্প এলাকায় আগুন এবং ঘন কালো ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। কয়েকটি ভিডিয়োতে স্থাপনার একাধিক জায়গা থেকে আগুনের শিখা উঠতে দেখা যায়। তবে এই ভিডিয়োগুলির সত্যতা এখনও নিশ্চিত করেনি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলি।
ঘটনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব এবং হুথিদের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। হুথিদের দাবি, গত বৃহস্পতিবার রাতে সৌদি বাহিনী ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হামলা চালিয়েছিল। হুথি সমর্থিত আল মাসিরাহ টেলিভিশনের দাবি, সে দিন সানায় ২৬টি হামলা চালানো হয়েছিল। তবে সেই হামলায় কী কী লক্ষ্যবস্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা হতাহতের সংখ্যা কত, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
এর আগে সৌদি আরবের মদিনাতেও হামলার অভিযোগ উঠেছিল। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি ছিল, হুথিদের ছোড়া একটি ড্রোন মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে আঘাত করে। ওই কেন্দ্র থেকেই মসজিদে নববীর জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় বলে জানানো হয়েছিল। যদিও হুথিরা সেই হামলার দায় অস্বীকার করেছে। ফলে একের পর এক ঘটনার মধ্যে কে কোথায় হামলা চালাচ্ছে, তা নিয়েই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চলছে।
{{/usCountry}}এর আগে সৌদি আরবের মদিনাতেও হামলার অভিযোগ উঠেছিল। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি ছিল, হুথিদের ছোড়া একটি ড্রোন মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে আঘাত করে। ওই কেন্দ্র থেকেই মসজিদে নববীর জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় বলে জানানো হয়েছিল। যদিও হুথিরা সেই হামলার দায় অস্বীকার করেছে। ফলে একের পর এক ঘটনার মধ্যে কে কোথায় হামলা চালাচ্ছে, তা নিয়েই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চলছে।
{{/usCountry}}রিয়াধের আরামকো স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিকাঠামো আগেও হামলার নিশানায় এসেছে। চলতি সেপ্টেম্বরেই সৌদির পূর্ব পশ্চিম তেল পাইপলাইনের একটি অংশ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে মেরামতির কাজ শেষ করে সেখানে ফের তেল পরিবহণ শুরু করা হয়।
এখন রিয়াধের ঘটনার দিকে নজর গোটা বিশ্বের। কারণ আরামকো শুধু সৌদি আরবের নয়, আন্তর্জাতিক তেল বাজারের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নাম। তাই এই আগুন নিছক দুর্ঘটনা, না কি সত্যিই হুথিদের দাবি মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফল, সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে এলেই ঘটনার আসল ছবি আরও পরিষ্কার হবে।