...
...
Next Story

AAP: ‘সেভেন মিসড কলস!’ ৭ দিনে রাজ্যসভায় কীভাবে শক্তি হারাল আপ? জানুন অন্দরের কাহিনী

AAP: বুধবার সন্ধ্যায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল যা আশঙ্কা বা সন্দেহ করছিলেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তা নিশ্চিত হয়ে যায়। ততক্ষণে তাঁর রাজ্যসভার দশজন সাংসদের মধ্যে সাতজনই গেরুয়া শিবিরের হাত ধরে ফেলেছেন।

Published on: Apr 26, 2026 07:00 PM IST
Advertisement

AAP: আম আদমি পার্টির (আপ) সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সহজে হার স্বীকার করার পাত্র নন। তিনি জেলের অন্ধকার কুঠুরি থেকে ফিরে এসেছেন। 'আবগারি দুর্নীতি'র মামলা থেকেও মুক্তি পেয়েছেন। এমনকী দিল্লির নির্বাচনে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর তিনি নিজের দল পুনর্গঠন পর্যন্ত করেছেন। কিন্তু মাত্র সাত দিনের মধ্যে রাজনৈতিক সমীকরণে নাটকীয় বদল ঘটেছে, তা বড় ধাক্কা দিয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলকে।

৭ দিনে রাজ্যসভায় কীভাবে শক্তি হারাল আপ? (Hindustan Times)
৭ দিনে রাজ্যসভায় কীভাবে শক্তি হারাল আপ? (Hindustan Times)

ইন্ডিয়া টুডে-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ঘটনাটি হঠাৎ নয় বরং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক অপারেশনের ফল। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আপের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়ছিল। দলের কিছু সাংসদ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রণকৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন। সেই সুযোগেই প্রতিপক্ষ শিবির সক্রিয় হয়ে ওঠে। একাধিক স্তরে যোগাযোগ, বারবার গোপন বৈঠক এবং কৌশলী প্রস্তাব-সব মিলিয়ে তৈরি হয় দলত্যাগের মঞ্চ। এই গোটা ঘটনাকে রাজনৈতিক মহলে ‘সেভেন মিসড কলস’ নামে ডাকা হচ্ছে। কারণ, দাবি করা হচ্ছে, রাঘব চাড্ডা-সহ ৭ আপ সাংসদের দলত্যাগের পুরো বিষয়টি ছিল অত্যন্ত গোপনীয়। আগে থেকেই অরবিন্দ কেজরিওয়াল পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তাঁর সাংসদদের একে একে ফোন করতে শুরু করেন। অনেক ক্ষেত্রে সেই ফোনগুলো রিসিভ করা হয়নি বা সময়মতো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে আপকে বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

সাংসদদের একাংশ নাকি নেতৃত্বের কাছ থেকে স্পষ্ট দিশা বা আশ্বাস না পেয়ে ক্রমে দূরে সরে যান। সেই ‘মিসড কল’-এর ফাঁকেই অন্য শিবির তাদের কাছে পৌঁছে যায়। বুধবার সন্ধ্যায় কেজরিওয়াল যা আশঙ্কা বা সন্দেহ করছিলেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তা নিশ্চিত হয়ে যায়। ততক্ষণে তাঁর রাজ্যসভার দশজন সাংসদের মধ্যে সাতজনই গেরুয়া শিবিরের হাত ধরে ফেলেছেন। সম্ভবত কাগজে কলমে সইও হয়ে গিয়েছিল। কেজরিওয়াল শুধু দেখছিলেন, দলের অন্দরে কোনও বিদ্রোহ নেই। অথচ ধীর গতিতে তাঁর সামনেই তৈরি হচ্ছিল নতুন এক অধ্যায়। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হল- শুক্রবার সকাল পর্যন্ত, সাংবাদিক বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে পর্যন্তও কেজরিওয়াল সাংসদ সন্দীপ পাঠককে ফোন করছিলেন। তখনও তাঁকে বলা হয়, পাঠক তাঁর সঙ্গেই আছেন। কিন্তু শুক্রবার বিকেলে সেই সন্দীপ পাঠকই বিজেপি সদরে গিয়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান। রাঘব চাড্ডাদের গোটা পরিকল্পনাটি ছিল আগে থেকেই সাজানো। সপ্তাহজুড়ে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ২৭শে এপ্রিল, সোমবার দিল্লিতে ফেরার কথা ছিল। পরিকল্পনা ছিল: সাতজন সাংসদই তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করবেন। তারপর ২৮শে এপ্রিল, মঙ্গলবার, তাঁরা একসঙ্গে আপ পদত্যাগের ঘোষণা করবেন।

এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব দিল্লির গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় স্তরেও পড়তে পারে। বিরোধী জোট রাজনীতিতে আপের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একইসঙ্গে অন্য বিরোধী দলগুলিও এখন নিজেদের সাংসদদের ধরে রাখার ব্যাপারে আরও সতর্ক হচ্ছে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe