সংঘাতের আগুনে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েল বনাম ইরানের যুদ্ধে অশান্ত গোটা পশ্চিম এশিয়া। এই আবহে গত একমাস ধরে প্রশ্ন উঠছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ঠিক কত টাকা খরচ হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের? এবার সেই পরিসংখ্যান সামনে এল। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই) জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রতি সেকেন্ডে ১০ হাজার ৩০০ ডলার খরচ হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৯.৮ লক্ষ টাকা। এখনও পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদের ২.৬৩ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হয়েছে এই যুদ্ধে।

এক রকম বিনা প্ররোচনাতেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে একযোগে হামলা চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজ়রায়েল। এই হামলায় নিহত হন ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য। সেই থেকে যুদ্ধের আঁচে তপ্ত গোটা পশ্চিম এশিয়া। আর ৩১ দিন ধরে চলা এই যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। সেই আবহেই যুদ্ধের খরচ-খরচার হিসেব সামনে এল। জানা গিয়েছে, যুদ্ধে দৈনিক ৮৯০ মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৮ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা। এসআইপিআরআই-র রিপোর্ট অনুসারে, এই দৈনিক ব্যয়ের মধ্যে যুদ্ধাস্ত্র, বিমান অভিযান, নৌবাহিনী মোতায়েন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং রসদ সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন খাতে কত টাকা খরচ হচ্ছে?
১. যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে গোলাবারুদ-ক্ষেপণাস্ত্রে। প্রতিদিন প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার ৪০ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। যা মোট ব্যয়ের ৩৬ শতাংশ। টোমাহক ক্রুজ মিসাইল, জেডিএম বোমার মতো অস্ত্রশস্ত্রের উল্লেখ রয়েছে।
২. আকাশপথে যে অভিযান চলছে, তাতে দৈনিক ২৪৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় ২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার বেশি। যা মোট দৈনিক খরচের ২৭.৫ শতাংশ। মহড়া, আকাশে টহল, জ্বালানি ভরা থেকে নজরদারি অভিযানে খরচ হচ্ছে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা।
{{/usCountry}}২. আকাশপথে যে অভিযান চলছে, তাতে দৈনিক ২৪৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় ২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার বেশি। যা মোট দৈনিক খরচের ২৭.৫ শতাংশ। মহড়া, আকাশে টহল, জ্বালানি ভরা থেকে নজরদারি অভিযানে খরচ হচ্ছে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা।
{{/usCountry}}৩. নৌবাহিনীর অভিযানে দৈনিক ১৫৫ মিলিয়ন ডলার করে খরচ হয়েছে, ভারতীয় মুদ্রায় যা ১৪৭২ কোটির বেশি। বিমানবাহী রণতরী, ডেস্ট্রয়ার এবং সাবমেরিন অভিযানও রয়েছে এর মধ্যে।
৪. প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি এবং এজিস বিএমডি ইন্টারসেপ্টের মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যবহার করতে দৈনিক ৯৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় ৯০২ কোটি টাকার বেশি। যা মোট দৈনিক ব্যয়ের ১০.৭ শতাংশ।
৫. গোয়েন্দা, সাইবার অপারেশনে খরচ হচ্ছে ৪৫ মিলিয়ন ডলার দৈনিক, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৪২৭ কোটি টাকা।
৬. আইএসআর প্ল্যাটফর্ম, স্যাটেলাইট ছবি মিলিয়েও দৈনিক খরচের খতিয়ান সামনে এসেছে। লোকজন, লজিস্টিক্স খাতে খরচ হচ্ছে দৈনিক ৩০ মিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৮৫ কোটি টাকা।
আরব দেশগুলির কাছ থেকে কী খরচের টাকা তুলবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?
মার্কিন করদাতাদের টাকায়, যুদ্ধখাতে এই বিপুল পরিমাণ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সোমবার এ নিয়ে প্রশ্ন করলে হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়, ট্রাম্প এ ব্যাপারে আগ্রহী। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, 'আমার মনে হয়, প্রেসিডেন্ট এ ব্যাপারে আগ্রহী হবেন। আমি ওঁকে টপকে কিছু বলব না। কিন্তু এই ভাবনা ওঁর মাথাতেও ঘুরছে। উনি এ নিয়ে কথা বলবেন।' এর আগে, উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় জার্মানি, জাপান-সহ সহযোগী দেশগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খরচের কিছু অংশ বহন করেছিল। প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলার দিয়েছিল তারা। সেবার যদিও শরিক দেশগুলিকে নিয়েই যুদ্ধে ঝাঁপিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এবার কাউকে কিছু না জানিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েল একযোগে ইরানে হামলা করে। ইরান ইতিমধ্যেই যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ চেয়ে সরব হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাকি দেশগুলি সাহায্য করবে কিনা, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে সর্বত্র।