Assembly Elections Result: পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অসম, কেরল ও পুদুচেরির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল এখন দেশ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রাথমিক প্রবণতায় পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের পতনের ঘণ্টা বাজছে, অসমে হিমন্ত বিশ্বশর্মার আধিপত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে এবং তামিলনাড়ুতে পর্দার নায়ক থেকে বাস্তবের জননায়ক হওয়ার পথে বড় চমক দেখিয়েছেন থালাপতি বিজয়। অন্যদিকে, কেরলের মতো রাজ্যে বর্তমান শাসক দল বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পুদুচেরিতে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে গেরুয়া শিবিরের।
পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঝড়
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টির প্রাথমিক গণনায় দেখা যাচ্ছে, বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, বিজেপি ১৯২টি আসনে এগিয়ে থেকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগোচ্ছে। বিপরীতে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে মাত্র ৯৪টি আসনে। ব্যবধান ১০০ ছুঁইছুঁই হওয়ায় বিজেপি শিবিরে উল্লাস শুরু হয়েছে। এবার বাংলার প্রচারাভিযানে তীব্র উত্তেজনা ছিল, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এসআইআর, কারচুপির অভিযোগ এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের মতো বিষয়গুলো। রাজ্যে বিজেপির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর এই লড়াইয়ের দিকে সারা দেশের নজর থাকলেও, সামগ্রিক ফলাফলে গেরুয়া শিবিরের আধিপত্য স্পষ্ট। বিজেপির সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনে জিতলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় পর্যায়ে সবচেয়ে প্রভাবশালী ‘বিজেপি-বিরোধী’ ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হতে পারতেন। তবে, বাংলার এই পরাজয় শুধু তৃণমূলের জন্যই নয়, বিরোধী দলের জন্যও একটি বড় ধাক্কা। মমতার সব আশা ধূলিসাৎ হচ্ছে।
অসমে প্রত্যাবর্তন
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ধরে রাখল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। ১২৬টি আসনের মধ্যে ১০০টিতেই এগিয়ে রয়েছে তারা। এর মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন দেখছেন বিশ্লেষকরা। ফলাফল থেকে স্পষ্ট, অসমে বিজেপির দাপট অব্যাহত, যেখানে তারা টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গে এই উত্থান এবং অসমে নিজেদের জায়গা ধরে রাখা এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলিতে বিজেপির রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অসমে সংখ্যালঘু ভোটারের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও বিরোধী জোট এবার বিজেপির ‘উন্নয়ন ও সুশাসন’ নীতির সামনে বড় কোনও চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারেনি।
তামিলনাড়ুতে 'বিজয়' রথ
{{/usCountry}}উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ধরে রাখল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। ১২৬টি আসনের মধ্যে ১০০টিতেই এগিয়ে রয়েছে তারা। এর মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন দেখছেন বিশ্লেষকরা। ফলাফল থেকে স্পষ্ট, অসমে বিজেপির দাপট অব্যাহত, যেখানে তারা টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গে এই উত্থান এবং অসমে নিজেদের জায়গা ধরে রাখা এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলিতে বিজেপির রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অসমে সংখ্যালঘু ভোটারের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও বিরোধী জোট এবার বিজেপির ‘উন্নয়ন ও সুশাসন’ নীতির সামনে বড় কোনও চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারেনি।
তামিলনাড়ুতে 'বিজয়' রথ
{{/usCountry}}তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এবারের প্রধান আকর্ষণ দক্ষিণী মেগাস্টার থালাপতি বিজয় (জোসেফ বিজয়)। তার নবগঠিত দল ‘তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম’ (টিভিকে) প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েই বড় দুই দ্রাবিড় পরাশক্তি ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-কে পেছনে ফেলে দিয়েছে।তামিলনাড়ুতে বিজয়ের উত্থান ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। বিজয় নিজে পেরাম্বুর ও তিরুচিরাপল্লি (পূর্ব) আসন থেকে লড়েছেন। নিজেকে ‘তামিল পরিবারের সদস্য’ হিসেবে তুলে ধরে তিনি যে ‘হুইসেল রেভল্যুশন’ বা শিস বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন, তার ফল এখন ব্যালটে প্রতিফলিত হয়েছে। যদিও বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিন বিষয়টিকে কটাক্ষ করেছেন, কিন্তু বিজয়ের জয়যাত্রা তামিল রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের জন্ম দিচ্ছে।
কেরলে বাম দুর্গে ধস
ভারতে একমাত্র কেরলেই ক্ষমতায় ছিল বামেরা। কিন্তু দক্ষিণী এই রাজ্যে ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে ‘লাল দুর্গ।’ কেরলে ঝড় তুলেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কেরলে ইতিমধ্যেই ৬৩ আসনে জয়ী হয়েছে ইউডিএফ। অন্যদিকে, মাত্র ২৬টি আসনে জিতেছে বামজোট এলডিএফ। কেরলের নির্বাচনী ফলাফল জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এলডিএফের পরাজয়ের ফলে এখন ‘বামশূন্য’ দেশ। ১৯৭৭ সালের পর এই প্রথমবার গোটা দেশে কোথাও নেই বাম সরকার – যা নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন। আর এসবের মাঝেই দক্ষিণে বিজেপির জন্য খুলল দরজা।
পুদুচেরিতে গেরুয়া দাপট
প্রত্যাশা মতোই পুদুচেরিতে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। আঞ্চলিক দল এনআর কংগ্রেসকে হাত করে সেখানে সরকার গঠনের পথে এনডিএ। পুদুচেরির ৩০ আসনের মধ্যে এনডিএ জোটকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এনআরসি জোট-কে ১৭ টি আসন দখল করেছে। অন্যদিকে, কংগ্রেসকে ৮টি আসনে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ক্ষমতা ফের থাকছে গেরুয়া বহিনীর হাতে। পুদুচেরির ৩০ আসনের বিধানসভাতেও এআইএনআরসি-সহ এনডিএ জোট শক্তিশালী অগ্রগমন বজায় রেখে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে তাদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে। থাট্টানচাভাডি আসনে এআইএনআরসি-র প্রতিষ্ঠাতা ও মুখ্যমন্ত্রী এন. রঙ্গস্বামী সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়েছেন। এআইএনআরসি, বিজেপি, এআইএডিএমকে এবং এলজেকে নিয়ে গঠিত এনডিএ জোট কংগ্রেস, ডিএমকে এবং ভিসিকে নিয়ে গঠিত ইন্ডিয়া ব্লকের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।