সদ্য গণ অভ্যুত্থানের হাত ধরে নেপালের মসনদ খুইয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ওলি এবং পরে নির্বাচনে জন সমর্থন নিয়ে সেই প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছেন বলেন্দ্র শাহ। নেপালের গদিতে বসে বলেন্দ্রের নেওয়া একাধিক পদক্ষেপ কেড়েছে নজর। এবার তিনি নেপালের সংসদে স্পষ্ট স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, শুধু যে ভারত নেপালের এলাকা দখল করে রেখেছে তা নয়, নেপালও ভারতের কিছু কিছু জায়গা দখল করে রেখেছে।

সদ্য নেপালের সংসদে এক বক্তব্য রাখতে গিয়ে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেই আমি সম্প্রতি যে তথ্যটি জানতে পেরেছি, তা জানলে আপনি অবাক হবেন। ভারত শুধু নেপালের ভূখণ্ডই দখল করেনি, নেপালও বহু জায়গায় ভারতের ভূখণ্ড দখল করেছে।’ এখানেই শেষ নয়। বলেন্দ্র শাহের বক্তব্য, ‘এখন উভয় দেশের উচিত প্রকৃত ঘটনা পর্যালোচনা করে বন্ধু হিসেবে একসঙ্গে বসে সমস্যাটির সমাধান করা।’ নেপালের সংসদে তিনি তিনি আইনপ্রণেতাদের জানান যে, কাঠমান্ডু বিষয়টি চিন ও ইউকে-র কাছেও উত্থাপন করেছে, যার মধ্যে ইউকে-র সঙ্গে এই অঞ্চলে তার ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকারের (ব্রিটিশ যুগের) কারণে যোগাযোগ করা হয়েছে।
তবে, কয়েক ঘণ্টা পর নেপালের বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট করে জানায় যে, নেপালের ভারতীয় ভূখণ্ড ‘অনুপ্রবেশ’ সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রী শাহের মন্তব্যটি দুই দেশের মধ্যে থাকা নো-ম্যান’স ল্যান্ড এবং সীমান্ত অতিক্রম করে দখলের ঘটনাকে নির্দেশ করে।
এদিকে, বলেন্দ্র শাহের মন্তব্যে সরগরম কাঠমান্ডুর রাজনীতি। নেপালের বিরুদ্ধে ভারতীয় ভূখণ্ডে কথিত অনুপ্রবেশ নিয়ে শাহের মন্তব্য কাঠমান্ডুতে তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। নেপালি কংগ্রেসের বাসনা থাপা এবং নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির রমেশ মল্ল সহ বিরোধী দলের সাংসদরা তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন এবং সংসদীয় নথি থেকে তা মুছে ফেলার দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর হয় প্রমাণ দেওয়া উচিত, অথবা বিবৃতিটি প্রত্যাহার করা উচিত। নেপালের প্রাক্তন বিদেশ প্রদীপ গাওয়ালীও এই বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছ থেকে ক্ষমা দাবি করেছেন।
{{/usCountry}}এদিকে, বলেন্দ্র শাহের মন্তব্যে সরগরম কাঠমান্ডুর রাজনীতি। নেপালের বিরুদ্ধে ভারতীয় ভূখণ্ডে কথিত অনুপ্রবেশ নিয়ে শাহের মন্তব্য কাঠমান্ডুতে তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। নেপালি কংগ্রেসের বাসনা থাপা এবং নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির রমেশ মল্ল সহ বিরোধী দলের সাংসদরা তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন এবং সংসদীয় নথি থেকে তা মুছে ফেলার দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর হয় প্রমাণ দেওয়া উচিত, অথবা বিবৃতিটি প্রত্যাহার করা উচিত। নেপালের প্রাক্তন বিদেশ প্রদীপ গাওয়ালীও এই বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছ থেকে ক্ষমা দাবি করেছেন।
{{/usCountry}}ভারত-নেপাল সীমান্ত প্রায় ১৮৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এর বেশিরভাগ অংশই জনবসতিপূর্ণ। মূল বিরোধটি রয়েছে হিমালয়ের পাদদেশের তিনটি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে। এগুলি হল-কালাপানি, লিপুলেখ পাস এবং লিম্পিয়াধুরা। এই অঞ্চলগুলি ভারত-নেপাল সীমান্তের পশ্চিম অংশে, উত্তরাখণ্ড রাজ্যের কাছে অবস্থিত। এর কাছাকাছি রয়েছে চিনের আওতাধিক তিব্বত। এই অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ভারত-চিন-নেপাল ত্রি-সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত এবং এখানে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও তীর্থযাত্রার পথ রয়েছে, যার মধ্যে তিব্বতের কৈলাস মানস সরোবরে গমনকারী ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের ব্যবহৃত পথটিও অন্তর্ভুক্ত।