...
...
Next Story

IAF Update: স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্তের ইতিহাস, প্রথম মহিলা হিসেবে বায়ুসেনার এলিট কমব্যাট কোর্সে স্নাতক

ভারতীয় বায়ুসেনার সর্বোচ্চ যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘টপ গান’ স্কুল থেকে প্রথম মহিলা হিসেবে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন তিনি। গোয়লিয়রে অবস্থিত TACDE-এ ২০ সপ্তাহের অত্যন্ত কঠোর ফাইটার কমব্যাট লিডার কোর্স সম্পূর্ণ করে এই বিরল সম্মান অর্জন করেছেন ভাবনা।

Published on: Aug 7, 2026, 08:50:13 IST
Advertisement

IAF Squadron Leader Bhawana Kanth: ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) ইতিহাসে আরও এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করলেন স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত। ভারতীয় বায়ুসেনার সর্বোচ্চ যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘টপ গান’ স্কুল থেকে প্রথম মহিলা হিসেবে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন তিনি। গোয়লিয়রে অবস্থিত ট্যাকটিকস অ্যান্ড এয়ার কমব্যাট ডেভেলপমেন্ট এস্টাব্লিশমেন্ট (TACDE)-এ ২০ সপ্তাহের অত্যন্ত কঠোর ফাইটার কমব্যাট লিডার কোর্স সম্পূর্ণ করে এই বিরল সম্মান অর্জন করেছেন ভাবনা।

ভারতীয় বায়ুসেনার সর্বোচ্চ যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘টপ গান’ স্কুল থেকে প্রথম মহিলা হিসেবে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন ভাবনা কান্ত
ভারতীয় বায়ুসেনার সর্বোচ্চ যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘টপ গান’ স্কুল থেকে প্রথম মহিলা হিসেবে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন ভাবনা কান্ত

আইএএফের ‘টপ গান’ স্কুলকে যুদ্ধবিমান চালকদের জন্য দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরা হয়। এখানে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়াই অত্যন্ত কঠিন। বায়ুসেনার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ জন ফাইটার পাইলটের মধ্যে মাত্র একজনকে এই কোর্সে অংশ নেওয়ার জন্য বেছে নেওয়া হয়। দীর্ঘ ২০ সপ্তাহের এই প্রশিক্ষণে আধুনিক আকাশযুদ্ধের কৌশল, দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল হামলা, জটিল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে হয়।

বর্তমানে ভাবনা কান্ত ভারতের অন্যতম আধুনিক যুদ্ধবিমান সুখোই-৩০ এমকেআই উড়ান। এর আগে তিনি ভারতীয় বায়ুসেনার কিংবদন্তি যুদ্ধবিমান মিগ-২১ বাইসন পরিচালনা করতেন। মিগ-২১ থেকে সুখোই-৩০ এমকেআই-তে উত্তরণ এবং এখন টপ গান স্কুল থেকে স্নাতক হওয়া তাঁর সামরিক জীবনের একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

ভাবনা কান্তের এই সাফল্যের শুরু আজকের নয়। ২০১৬ সালে ভারতীয় বায়ুসেনা প্রথমবারের মতো মহিলা ফাইটার পাইলট নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই ঐতিহাসিক ব্যাচের তিন সদস্য ছিলেন ভাবনা কান্ত, অবনী চতুর্বেদী এবং মোহনা সিং। এই তিনজনই ভারতীয় সামরিক ইতিহাসে প্রথম মহিলা, যারা যুদ্ধবিমান চালানোর দায়িত্ব পান।

২০১৬ সালে এক সাক্ষাৎকারে ভাবনা কান্ত বলেছিলেন, আকাশে ওড়া তাঁর ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল। সুযোগ পাওয়ার পর এক মুহূর্তও দেরি না করে তিনি সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে যান। তাঁর মতে, মহিলাদের ফাইটার পাইলট হওয়ার সময় এখন নয়, সেই সময় অনেক আগেই এসেছিল; শুধু সিদ্ধান্তটি পরে নেওয়া হয়েছে।

বিহারের একটি ছোট শহর থেকে উঠে আসা ভাবনা কান্ত আজ দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার নাম। পুরুষ-প্রধান যুদ্ধবিমান বাহিনীতে একের পর এক বাধা ভেঙে তিনি প্রমাণ করেছেন দক্ষতা, পরিশ্রম এবং সাহসের কোনও লিঙ্গভেদ নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টপ গান স্কুল থেকে ভাবনা কান্তের স্নাতক হওয়া শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভারতীয় বায়ুসেনায় নারীদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকারও এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি। ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধ পরিচালনার জন্য যে অভিজাত পাইলটদের তৈরি করা হয়, সেই তালিকায় প্রথমবারের মতো একজন ভারতীয় মহিলার নাম যুক্ত হওয়া ভারতীয় সামরিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe