ভারতের বিরুদ্ধে টি২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছিল পাকিস্তান। তবে শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচ তাঁরা খেলেছে এবং হেরেছে। এদিকে এই ম্যাচটি খেলার জন্য নাকি পাকিস্তানকে 'অনুরোধ' করেছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান বুলবুল। এমনকী পাকিস্তানে গিয়ে বুলবুল বৈঠক করেছিলেন পিসিবি এবং আইসিসির কর্তাদের সঙ্গে। পরে পাকিস্তান বোর্ডের উদ্দেশে তিনি চিঠি লিখে 'ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে' ভারতের বিরুদ্ধে খেলার আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই সময় পিসিবিও মেনে নিয়েছিল বুলবুলের কথা। ভারত-পাক ম্যাচের কৃতিত্ব বুলবুলকেই দিয়েছিল পাকিস্তান। তবে এবার সেই কৃতিত্ব বুলবুল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমার দিশানায়েকেকে দিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান তথা পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি।

ভারত বনাম পাকিস্তানের ম্যাচটি স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতির পাশে বসেই দেখেছিলেন নকভি। পরে তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি ফোন করে এই ম্যাচটি খেলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কাছে। তারপরই নাকি নকভিকে শেহবাজ বলেছিলেন, 'শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি যেখানে অনুরোধ করেছেন, তাহলে আর কোনও ইস্যু নেই। এই ম্যাচ আমাদের খেলতেই হবে।' ভারত এবং পাকিস্তানের ম্যাচ হওয়ার নেপথ্যে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতিকে 'একমাত্র হিরো' বলে আখ্যা দেন নকভি।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে হিন্দু নিধনের প্রতিবাদে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল মুস্তাফিজুর রহমানকে। আর এরপরই ভারতে এসে আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। পরে বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে সুযোগ দেয় আইসিসি। এদিকে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানি বোর্ড ঘোষণা করেছিল, বাংলাদেশ না খেললে তারাও বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করবে। পরে তারা বলে, বিশ্বকাপ খেললেও ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচটি তারা বয়কট করবে। যদিও আইসিসির শাস্তির ভয়ে পাকিস্তান যে এই ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত খেলতে নামত, তা অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকই বলেছিলেন। এবং শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছিল। মাঝখান থেকে বাংলাদেশকে উস্কে দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ থেকে কার্যত বাদ দিল পাকিস্তান। আর মুখরক্ষার জন্য ভারত-পাক ম্যাচ করানোর যে কৃতিত্বটা বাংলাদেশের বুলবুল পেয়েছিলেন, তাও এবার ছিনিয়ে নেওয়া হল।