IITian rejects 32 LPA job: টাকার থেকে শান্তি বড়! ৩২ লাখ টাকার চাকরি ফিরিয়ে IIT-র স্নেহা থাকছেন প্রিয় শহরে

IITian rejects 32 LPA job: টাকার থেকে শান্তি বড়! ৩২ লাখ টাকার প্যাকেজের চাকরির অফার ফিরিয়ে আইআইটিতে পড়া যুবতী থাকছেন প্রিয় শহরে। তিনি জানিয়েছেন, যেদিন নয়া চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল, সেদিন তাঁকে যেন স্বর্গীয় সংকেত দেওয়া হয়েছিল।

Published on: Jul 4, 2026, 12:59:30 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

IITian rejects 32 LPA job: টাকার থেকে মনের শান্তি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর সেজন্য ৩২ লাখ টাকা প্যাকেজের চাকরি ফিরিয়ে নিজের প্রিয় শহর বেঙ্গালুরুতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ২৫ বছরের যুবতী স্নেহা প্রিয়া। একটি বহুজাতিক সংস্থায় বার্ষিক ৩২ লাখ টাকার অফার পেয়েও অবলীলায় প্রত্যাখ্যান করে দেন। বেশি বেতনের সুযোগ ছেড়ে নিজের মানসিক শান্তি, নিরাপত্তা এবং চেনা পরিবেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বেঙ্গালুরুতেই। সেই বহুজাতিক সংস্থার চাকরি ছেড়ে স্নেহা বর্তমানে বেঙ্গালুরুতেই একটি তুলনামূলক কম পরিচিত সংস্থায় কম বেতনে চাকরি করা শুরু করেছেন।

৩২ লাখ টাকার চাকরির অফার ফিরিয়ে প্রিয় শহরে থাকছেন স্নেহা প্রিয়া। (ফাইল ছবি, সৌজন্যে ইনস্টাগ্রাম)
৩২ লাখ টাকার চাকরির অফার ফিরিয়ে প্রিয় শহরে থাকছেন স্নেহা প্রিয়া। (ফাইল ছবি, সৌজন্যে ইনস্টাগ্রাম)

কে এই তরুণী এবং কী তাঁর পরিচয়?

২৫ বছরর স্নেহা আইআইটি রুরকির কৃতী ছাত্রী। ২০২৩ সালে সেখান থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে বিটেক (BTech) ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর তিনি পেশাগত জীবন শুরু করেন একজন ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে। প্রথম চাকরির সূত্রে পাড়ি জমান বেঙ্গালুরুতে। বিগত তিন বছর ধরে এই টেক-সিটিতেই বসবাস করছেন তিনি।

৩২ লাখের অফার এবং কঠিন সিদ্ধান্ত

স্নেহা জানান, কর্পোরেট জীবনের প্রথম চাকরিটি তাঁর জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না। কাজের অতিরিক্ত চাপ এবং প্রতিকূল কর্মপরিবেশের কারণে তিনি মানসিকভাবে ক্লান্ত বোধ করছিলেন। সেই কারণেই চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তিনি নতুন চাকরির সন্ধান শুরু করেন। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল এমন একটি স্থায়ী ও ভালো কর্মপরিবেশ খুঁজে পাওয়া, যেখানে কাজের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত শখ—যেমন গান গাওয়ার মতো সৃজনশীল কাজেও সময় দেওয়া যায়।

আরও পড়ুন: UPSC Civil Services Success Story: CA-র চাকরি ছেড়ে অনিশ্চতায় ভরা UPSC-র প্রস্তুতি! ১ মন্ত্রে প্রথমবারই সফল অঞ্জনি?

গত এপ্রিল মাসে তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ হয়। একটি নামী বহুজাতিক সংস্থা থেকে তাঁর কাছে ডেটা সায়েন্টিস্ট পদের জন্য অফার আসে। যেখানে বার্ষিক প্যাকেজ দেওয়া হয়েছিল ৩২ লাৎ টাকা। শুধু তাই নয়, জয়েনিং বোনাস থেকে শুরু করে রিলোকেশন বোনাস—সব মিলিয়ে এটি ছিল যে কোনও প্রফেশনালের কাছে একটি ‘ড্রিম জব’। কিন্তু এই চাকরির একমাত্র শর্ত ছিল, স্নেহাকে বেঙ্গালুরু ছেড়ে গুরুগ্রামে শিফট হতে হবে। ৩০ জুন তাঁর গুরুগ্রামের অফিসে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে স্নেহা বুঝতে পারেন, টাকার চেয়ে তাঁর কাছে জীবনের মানসিক শান্তি ও সুস্থতা অনেক বেশি দামি। ফলে সেই স্বপ্নের চাকরিটি তিনি ফিরিয়ে দেন।

কেন গুরুগ্রামের চেয়ে বেঙ্গালুরুকে বেছে নিলেন স্নেহা?

১) আপনজন ও মানসিক সাপোর্ট সিস্টেম: স্নেহা জানিয়েছেন, বেঙ্গালুরুতে তাঁর দাদা এবং বৌদি থাকেন। এছাড়া বিগত তিন বছরে সেখানে তাঁর স্কুল ও কলেজের বন্ধুদের নিয়ে একটি সুন্দর বৃত্ত তৈরি হয়েছে। যে কোনও কঠিন পরিস্থিতি বা আনন্দের মুহূর্তের সময় এই চেনা মানুষগুলোকে পাশে পাওয়া স্নেহার কাছে কোটি টাকার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে।

আরও পড়ুন: UPSC Civil Services Success Story: বাবা ক্যারিব্যাগ সাপ্লায়ার ছিলেন, বাড়িতে নিজে পড়েই UPSC ক্র্যাক মেয়ে রীতিকার

২) নিরাপত্তার অভাব ও অতীত তিক্ত অভিজ্ঞতা: স্নেহা জানান, আইআইটিতে পড়ার সময় একাধিকবার দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে যাতায়াতের সূত্রে তাঁর কয়েকটি অত্যন্ত তিক্ত ও অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা হয়েছিল। বিশেষ করে দিল্লির একটি রেলওয়ে স্টেশনে হওয়া একটি প্রতারণার ঘটনা তাঁর মনে গভীর দাগ কেটেছিল। নারী নিরাপত্তার নিরিখে গুরুগ্রাম বা দিল্লির চেয়ে বেঙ্গালুরুকে অনেক বেশি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য মনে করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: UPSC Civil Services Success Story: মিড ডে মিল রান্না করতেন মা, ছেলে UPSC সিভিল সার্ভিসেসে করলেন কামাল, হলেন IAS

৩) শহরের সংস্কৃতি ও মানুষের আচরণ: স্নেহার মতে, বেঙ্গালুরুর মানুষজন অত্যন্ত অমায়িক ও মিষ্টি স্বভাবের। ট্র্যাফিকের সমস্যা বাদ দিলে এখানকার আবহাওয়া এবং সংস্কৃতি অসাধারণ। এই শহর আমার জীবনের ভালো-মন্দ সব সময়ের সাক্ষী। কোনও অর্থেই এই অনুভূতির বিকল্প হতে পারে।

আকাশে যুগল রামধনু: 'স্বর্গীয় সংকেত'

যেদিন (৩০ জুন) স্নেহার গুরুগ্রামে নতুন কর্মজীবন শুরু করার কথা ছিল, সেদিন তিনি গুরুগ্রামের ফ্লাইটে না উঠে বেঙ্গালুরুতেই নিজের ঘরে বসেছিলেন। কাকতালীয়ভাবে, সেই দিনই বেঙ্গালুরুর আকাশে দেখা যায় এক অপূর্ব ‘টুইন’ রামধনু। স্নেহা তাঁর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে সেই সুন্দর মুহূর্তের ভিডিয়ো শেয়ার করে লিখেছেন, ‘আজ আমার গুরুগ্রামে একটা নতুন অধ্যায় শুরু করার কথা ছিল। বেঙ্গালুরুকে বিদায় জানানোর কথা ছিল। কিন্তু আমি থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আর বেঙ্গালুরুও জোড়া রামধনু দিয়ে আমার মনের সব দ্বিধা-দ্বন্দ্বকে দূর করে দিল।'

  • Ayan Das
    ABOUT THE AUTHOR
    Ayan Das

    অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More