বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, নিজের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায়—এমন কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে ফেরার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাসন থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, চলতি বছরেই দেশে ফিরবেন এবং আওয়ামী লীগ আবারও জনগণের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াবে।

আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এনডিটিভিক দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর দেশে ফেরা ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়; বরং বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া রায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল এবং এটি কোনওভাবেই ন্যায়বিচারের প্রতিফলন নয়।
হাসিনা বলেন, ‘আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। আমি মানুষের কল্যাণ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য রাজনীতি করি।’ তাঁর অভিযোগ, বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করার চেষ্টা চলছে। তবে অতীতের মতো এবারও সেই চেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে তিনি আশাবাদী।
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা সংকটের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালে তিনি পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হারিয়েছেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন, কিন্তু কোনও ষড়যন্ত্রই তাঁকে জনগণের কাছ থেকে দূরে সরাতে পারেনি। পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরবর্তী বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বেড়েছে এবং উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
{{/usCountry}}বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরবর্তী বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বেড়েছে এবং উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
{{/usCountry}}শেখ হাসিনার বক্তব্য, আওয়ামী লীগের শক্তি কোনও সরকারের অনুগ্রহের ওপর নির্ভর করে না; বরং জনগণের সমর্থনের ওপর দাঁড়িয়ে। দলীয় কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালিয়েও মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি বলে তাঁর দাবি। তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে প্রতিদিন আওয়ামী লীগের সমর্থনে মিছিল হচ্ছে। সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এসব ঘটনাকে তিনি দলের পুনর্জাগরণের লক্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
দলের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু, নারী, শিশু, শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় আপসহীন থাকতে হবে। তাঁর কথায়, “আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রতিশোধের নয়; মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও উন্নয়নের রাজনীতি।’ সব বাধা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তিতেই আবারও বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং তিনিও চলতি বছরের মধ্যেই দেশে ফিরবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন শেখ হাসিনা।