Maharashtra News: জনস্বাস্থ্যের চরম ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে কৃত্রিম বা ভেজাল ‘অ্যানালগ’ পনিরের উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল মহারাষ্ট্র সরকার। গত ৩০ জুলাই রাজ্য এফডিএ কমিশনার তুকারাম মুন্ধে এই সংক্রান্ত একটি সরকারি গ্যাজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। সম্প্রতি সংগৃহীত পনিরের নমুনার ল্যাব টেস্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসার পরই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে; ল্যাব রিপোর্ট অনুযায়ী, ভেজিটেবল ফ্যাট বা উদ্ভিজ্জ চর্বির ভেজালের কারণে প্রায় ৩৫ শতাংশেরই বেশি নমুনা গুণমান পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়েছে।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্যাটারার এবং ক্লাউড কিচেনে এই ধরনের কৃত্রিম পনির বা দুগ্ধজাত বিকল্প প্রস্তুত, ব্যবহার, পরিবেশন বা মজুত রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তদন্তে গ্রাহকদের প্রতারিত করার এক বড় চক্র উন্মোচিত হয়েছে। দেখা গেছে, মেনু কার্ডে কোনও ধরনের ঘোষণা ছাড়াই খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁগুলি খাঁটি দুধের পনিরের বদলে গোপনে সস্তা ও ভেজাল অ্যানালগ পনির ব্যবহার করছিল। খাঁটি পনির উৎপাদনের ক্ষেত্রে এখন থেকে এফএসএসএআই-র প্যাকেজিং ও লেবেলিং সংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এর আওতায় পণ্যে বিদ্যমান দুগ্ধজাত ফ্যাটের সঠিক পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে তা স্পষ্টভাবে শ্রেণীবদ্ধ বা ক্যাটাগরি করা বাধ্যতামূলক।
রাজ্য সরকারের এই কড়া নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে 'অল ইন্ডিয়া ফুড অ্যান্ড ড্রাগ লাইসেন্স হোল্ডার ফাউন্ডেশন'-এর সভাপতি অভয় পান্ডে বলেন, 'মহারাষ্ট্রে চিজ বা পনির অ্যানালগ (কৃত্রিম বিকল্প) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক আলোচনা ও প্রশ্ন উঠছিল। অবশেষে আজ মহারাষ্ট্রে এটি নিষিদ্ধ করার আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হলো।' তিনি আরও বলেন, 'আমাদের খাদ্য সুরক্ষা কমিশনার তুকারাম মুন্ধে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তিনি অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে এই জিআর (সরকারি নির্দেশিকা) জারি করেছেন।' খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী যে কোনও খাদ্য ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে তাত্ক্ষণিকভাবে মজুত পণ্য বাজেয়াপ্তকরণ, তা বিনষ্ট করা এবং মোটা অঙ্কের জরিমানা।