সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কিন্তু সেখানে কয়েক ঘণ্টা কাটিয়েই ফের তাঁকে জেলে পাঠানো হল। ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই এই খবর জানিয়েছে।

৭৩ বছরের ইমরানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চোখের সমস্যা-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যার চিকিৎসার জন্য তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছিল পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশ ছিল, পরবর্তী শুনানি ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা করাবেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তার আগেই তাঁকে ফের জেলে পাঠানো হয়।
ইমরানের হাসপাতালে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর পিটিআই-র তরফে স্বস্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। সমাজমাধ্যমে দলের তরফে বলা হয়, হাসপাতালে যাওয়া তাঁদের গন্তব্য নয়। এটি শুধু একটি ধাপ। দলের আসল লক্ষ্য দেশের ‘প্রকৃত স্বাধীনতা’ এবং একটি স্বাধীন বিচারব্যবস্থা।
গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে রয়েছেন ইমরান। ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। তারপর থেকেই একের পর এক মামলায় জড়িয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রধান। তাঁর সমর্থকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণেই তাঁকে বন্দি রাখা হয়েছে।
এদিকে ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই উদ্বেগ বাড়ছিল। সেই কারণেই তাঁর চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করে। একই সঙ্গে ইমরানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করার সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয় পাক শীর্ষ আদালতের তরফ থেকে।
{{/usCountry}}এদিকে ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই উদ্বেগ বাড়ছিল। সেই কারণেই তাঁর চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করে। একই সঙ্গে ইমরানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করার সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয় পাক শীর্ষ আদালতের তরফ থেকে।
{{/usCountry}}কারাগারে দীর্ঘদিন প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকার পর সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান ইমরান। মঙ্গলবার আদিয়ালা জেলে তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবি এবং বোন নুরিন নিয়াজর সঙ্গে দেখা হয়। প্রায় ন’মাস পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ হয়।
জেল সূত্রকে উদ্ধৃত করে পাক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইমরানের সঙ্গে তাঁর বোনের প্রায় ১৫ মিনিট কথা হয়। আর বুশরার সঙ্গে বৈঠক চলে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট। দীর্ঘ সময় পর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারায় এই সাক্ষাৎকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
ইমরান ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ২০২২ সালে আস্থাভোটে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা শুরু হয়।
২০২৫ সালে আল-কাদির ট্রাস্ট সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় ইমরান ও তাঁর স্ত্রীকে সাজা দেওয়া হয়। সরকারি কৌঁসুলিদের অভিযোগ ছিল, ট্রাস্টের মাধ্যমে জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা বেআইনি সুবিধা নিয়েছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালে গোপন সরকারি নথি প্রকাশের মামলাতেও ইমরান দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
তবে জেলে থেকেও ইমরানের জনপ্রিয়তা কমেনি। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং পিটিআই সমর্থকদের মধ্যে তাঁর প্রভাব এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ইমরান ও তাঁর দলের নেতাদের নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। তবু তাঁর সমর্থনে ভোট পড়েছিল বিপুল।
ইমরানকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। যদিও পিটিআই মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি দাবি করেছেন, ইমরান মুক্তি পেলেও দেশের ক্ষতি হয় এমন কোনও পদক্ষেপ তিনি করবেন না। তাঁর দাবি, ইমরান দায়িত্বশীল এবং উদার মানসিকতার নেতা।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আবার কবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে ইমরানকে? তাঁর চিকিৎসা কতটা হচ্ছে? আর দীর্ঘ কারাবাসের পর তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি আদৌ কেমন? এখন সেই দিকেই নজর পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলের।