Imran Khan Sister's Claim on Modi-Munir: পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন নূরিন নিয়াজির একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের জাতীয় সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থা (NCEAC) তাঁকে সমন পাঠিয়ে ইসলামাবাদের দফতরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগ, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সম্পর্কে আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন।

সংস্থার দাবি, নূরিন নিয়াজি এমন কিছু পোস্ট এবং বক্তব্য প্রকাশ করেছেন, যার উদ্দেশ্য ছিল সরকারি সংস্থাগুলিকে বদনাম করা, সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি নূরিন নিয়াজির একটি সাক্ষাৎকার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেই সাক্ষাৎকারেই তিনি ২০২৫ সালের মে মাসে 'অপারেশন সিঁদুর'-এর সময় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া সামরিক সংঘর্ষ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, ওই সংঘর্ষ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে কথিত সমঝোতার ফল ছিল। তাঁর মতে, এই সংঘর্ষের মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করে তোলা।
সাক্ষাৎকারে নূরিন নিয়াজি আরও বলেন, পাহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ভারত চাইলে ১০ মে ২০২৫-এ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারত। কিন্তু কোনও ধরনের সমন্বয়ের কারণে ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘাত বাড়ায়নি বলে তিনি দাবি করেন। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ দেননি।
নিয়াজির আরও দাবি, ভারত সংঘাত বাড়ায়নি কারণ পাকিস্তান নাকি ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার দিকে এগোচ্ছিল। তাঁর বক্তব্য, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পাকিস্তানের জন্য 'আব্রাহাম চুক্তি'-তে যোগ দেওয়ার পথ সহজ করার চেষ্টা চলছিল। উল্লেখ্য, আব্রাহাম চুক্তি হল আমেরিকার মধ্যস্থতায় হওয়া একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তি, যার মাধ্যমে ইজরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরিন, সুদান এবং মরক্কোর মতো কয়েকটি আরব দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। পাকিস্তান এখনও পর্যন্ত ইজরায়েলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি এবং দুই দেশের মধ্যে কোনও কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই।
{{/usCountry}}নিয়াজির আরও দাবি, ভারত সংঘাত বাড়ায়নি কারণ পাকিস্তান নাকি ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার দিকে এগোচ্ছিল। তাঁর বক্তব্য, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পাকিস্তানের জন্য 'আব্রাহাম চুক্তি'-তে যোগ দেওয়ার পথ সহজ করার চেষ্টা চলছিল। উল্লেখ্য, আব্রাহাম চুক্তি হল আমেরিকার মধ্যস্থতায় হওয়া একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তি, যার মাধ্যমে ইজরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরিন, সুদান এবং মরক্কোর মতো কয়েকটি আরব দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। পাকিস্তান এখনও পর্যন্ত ইজরায়েলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি এবং দুই দেশের মধ্যে কোনও কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই।
{{/usCountry}}পাকিস্তানের জাতীয় সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থার পাঠানো নোটিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নূরিন নিয়াজি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে হেয় করা এবং মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর কাজে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে নির্দিষ্ট দিনে তদন্তকারীদের সামনে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সতর্ক করা হয়েছে, সমনের নির্দেশ না মানলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নূরিন নিয়াজির মন্তব্যকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর নেত্রী এবং পঞ্জাব প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আজমা বুখারি তাঁর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নূরিন নিয়াজির মন্তব্য পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তির বিরুদ্ধে। তিনি এই ধরনের মন্তব্যকে অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং নিন্দনীয় বলেও উল্লেখ করেছেন। নূরিন নিয়াজিকে ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। এখন তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে এবং তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।