যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। শুধু স্থল, জল কিংবা আকাশে লড়াই নয়, সাইবার দুনিয়া, মহাকাশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তথ্যপ্রযুক্তিও এখন যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বদলে যাওয়া পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ জানিয়েছেন, পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির দিকেও এগোচ্ছে দেশ। আগামী দুই দশকের যুদ্ধের কথা মাথায় রেখেই এই সামরিক সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে।

রবিবার এনডিটিভি ডিফেন্স সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই দাবি করেন রাজনাথ। তাঁর বক্তব্য, এই পথে একাধিক প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ আসবে। কিন্তু সেই বাধা পেরিয়ে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যাপারে ভারতের লক্ষ্য স্পষ্ট। বিদেশি প্রযুক্তির উপর শুধু নির্ভর করে থাকার বদলে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী যুদ্ধ প্রযুক্তি তৈরি করতে চায় দিল্লি।
আধুনিক যুদ্ধের চরিত্র বোঝাতে গিয়ে রাজনাথ বলেন, এখনকার লড়াই আর শুধুমাত্র এক দেশের সেনার সঙ্গে অন্য দেশের সেনার সরাসরি সংঘর্ষে সীমাবদ্ধ নেই। স্থল, সমুদ্র এবং আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ এবং মানুষের মনও যুদ্ধের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এমনকি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও আন্তর্জাতিক সংঘাতের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই বিমান প্রযুক্তিতে বড় পরিকল্পনা করছে ভারত। রাজনাথের কথায়, দেশের ভিতরে এখন বিমান ইঞ্জিন থেকে ড্রোন ইঞ্জিন পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি তৈরির কাজ চলছে। শুধু পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নয়, ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির দিকেও এগোনোর চেষ্টা চলছে। তবে প্রকল্পটি এখনও দীর্ঘ গবেষণা এবং প্রযুক্তি উন্নয়নের পথের মধ্যে রয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট।
শুধু যুদ্ধবিমান নয়, হাইপারসনিক প্রযুক্তিতেও ভারতের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ভারত দীর্ঘ পাল্লার একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের উড়ান পরীক্ষা সফল ভাবে চালিয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় কাজ করতে সক্ষম একটি স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিনও পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। হাইপারসনিক প্রযুক্তি ভবিষ্যতের অত্যন্ত দ্রুতগতির অস্ত্র ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
{{/usCountry}}শুধু যুদ্ধবিমান নয়, হাইপারসনিক প্রযুক্তিতেও ভারতের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ভারত দীর্ঘ পাল্লার একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের উড়ান পরীক্ষা সফল ভাবে চালিয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় কাজ করতে সক্ষম একটি স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিনও পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। হাইপারসনিক প্রযুক্তি ভবিষ্যতের অত্যন্ত দ্রুতগতির অস্ত্র ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
{{/usCountry}}এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পরিকল্পনাও। রাজনাথ জানিয়েছেন, গত এক দশকে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং রফতানি দুই ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০২৬ অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে তিনি দাবি করেছেন। ২০১৩ থেকে ২০১৪ অর্থবর্ষে এই অঙ্ক ছিল ৬৮৬ কোটি টাকা। ২০২৯ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা রফতানি ৫০ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যও জানিয়েছে কেন্দ্র।
রাজনাথের বক্তব্যে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট, ভবিষ্যতের সামরিক শক্তি গড়ার ক্ষেত্রে দেশীয় প্রযুক্তিকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে ভারত। তাঁর কথায়, লক্ষ্য শুধু অন্য দেশের তৈরি সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা নয়, নিজেদের প্রযুক্তিও তৈরি করা। সব মিলিয়ে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির ঘোষণা ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় বড় এক ইঙ্গিত। এখনও এই ধরনের বিমান নিয়ে প্রযুক্তিগত গবেষণা, নকশা এবং উন্নয়নের দীর্ঘ পথ বাকি। কিন্তু দিল্লি যে ভবিষ্যতের যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে, রাজনাথের বক্তব্যে তারই ইঙ্গিত মিলেছে।