...
...
Next Story

India-Bangladesh: দীর্ঘ বিরতির পর প্রথম বৈঠক! ভারত-বাংলাদেশের আলোচনায় বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা

India-Bangladesh: সূত্রের খবর, ভারত মূলত বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাধাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছে।

Published on: Oct 12, 2026, 19:50:39 IST
Advertisement

India-Bangladesh: জটিলতা কাটিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আবার আগের মতো স্বাভাবিক করতে চাইছে বাংলাদেশ। আগেই দুই দেশের মধ্যে ফের ট্রেন চলাচল শুরু হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কও উন্নত করতে চাইছে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার, নয়াদিল্লিতে হওয়া দু'দেশের মধ্যে বাণিজ্য বিষয়ক বৈঠক হয়েছে। আলোচনায় ভারতের তরফেও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের কিছু প্রতিবন্ধকতা দূর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

দীর্ঘ বিরতির পর প্রথম বৈঠক: ভারত-বাংলাদেশের আলোচনায় বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা (@bdhc_delhi)
দীর্ঘ বিরতির পর প্রথম বৈঠক: ভারত-বাংলাদেশের আলোচনায় বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা (@bdhc_delhi)

সূত্রের খবর, ভারত মূলত বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাধাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছে। বিশেষ করে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফল, চাল এবং লোহা ও ইস্পাত রপ্তানির ওপর বাংলাদেশের উচ্চ শুল্কহার প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির বাধা নিরসন, পরিবহণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মতো বিষয়গুলি নিয়েও আলোচনা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গত ৮-৯ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বাণিজ্য বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও ভারতের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে স্থলবন্দরভিত্তিক বিধিনিষেধ ও শুল্ক বিষয়ক বাধা দূর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পাটপণ্য ও পেট (পলিইথিলিন টেরেফথ্যালেট) ফিল্মের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও বিদ্যমান শুল্কসুবিধা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল, তা স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে দীর্ঘ সময় পর এটিই ছিল কোনও দ্বিপাক্ষিক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠক। এর পাশাপাশি কনস্যুলার বিষয়ের মতো অন্যান্য ক্ষেত্রেও ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে উভয় পক্ষ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, এই বাণিজ্য আলোচনা ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক এবং এই আলোচনা দুই দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের আসন্ন বৈঠকের পথ প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে। এই বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের আরোপিত বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু স্থলবন্দরে ভারতীয় তুলার সুতো এবং অন্যান্য পণ্য রপ্তানিতে থাকা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। এ ছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বহুমাত্রিক পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উৎপাদিত পণ্য স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি করতে বেশ কিছু সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে যে সমস্ত বিধিনিষেধ আছে সেগুলির প্রত্যাহার চায় ঢাকা। স্থলবন্দরগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবিও করা হয়েছে। ভারতীয় বাজারে পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ করতে শুল্ক প্রত্যাহার করার পাশাপাশি অন্যান্য বাণিজ্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে । এলডিসি উত্তরণের পর সাফটা চুক্তির আওতায় ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের শুল্কসুবিধা কীভাবে অব্যাহত রাখা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে বাংলাদেশ। এ ছাড়া পণ্যের মান নির্ধারণে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা এবং ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (বিআইএস) সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়। বাজারে প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি আঞ্চলিক পণ্য পরিবহণ বা ট্রানজিট–সুবিধা সম্প্রসারণও বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। বিশেষ করে, ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে নেপাল ও ভুটানে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। দু'দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে সিইওস ফোরাম কার্যকর করার প্রস্তাবও দিয়েছে বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১২.৩৬ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ভারতের রপ্তানির পরিমাণই ছিল ১০.৫৮ বিলিয়ন ডলার। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বাণিজ্যের এই বিপুল ঘাটতির কারণে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ দ্রুত শিথিল করার সম্ভাবনা আপাতত কম।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks