ইরান যুদ্ধের মাঝে হরমুজ প্রণালী রুদ্ধ হতে, মাঝের কিছুটা সময় ভারতকে রাশিয়ার থেকে তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিয়েছিল আমেরিকা। এর আগে, রাশিয়ার তেল মার্কিনি কোপে ছিল! তবে এবার আর রাশিয়ার থেকে ভারতের তেল কেনায় ছাড় দিতে নারাজ ট্রাম্পের দেশ আমেরিকা। ইতিমধ্যেই তা জানিয়েছে সেদেশ। এদিকে, ভারতকে জ্বালানি তেল সরবরাহে প্রস্তুত দিল্লির বন্ধু রাশিয়া! মস্কোও সদ্য তা স্পষ্ট করেছে। মার্কিনি চোখ রাঙানির এমন এক আবহে, এবার স্টিল সেক্টর নিয়ে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পন্ন হল এক হাইভোল্টেজ আলোচনা।

কাঁচামাল সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, সরঞ্জাম উৎপাদন এবং গবেষণার মতো ক্ষেত্রগুলিতে আলোকপাত করে স্টিল খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করতে ভারত ও রাশিয়া বৃহস্পতিবার একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক করেছে। স্টিল মন্ত্রকের তরফে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ভারতের ইস্পাত সংক্রান্ত সচিব এবং রুশ ফেডারেশনের শিল্প ও বাণিজ্য উপমন্ত্রী মিখাইল ইউরিন যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন এবং এতে উভয় দেশের শিল্প প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
ইতিমধ্য়েই জ্বালানি তেল নিয়ে ভারত ও রাশিয়া বেশ কিছুটা ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এরপর স্টিল বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকটি একটি ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের প্রতিফলন এবং উভয় পক্ষই ইস্পাত খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এদিকে, তেল নিয়ে বক্তব্য রেখে মস্কোর তরফে সম্প্রতি ভারতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন,' ব্রহ্মস (আমাদের যৌথভাবে করা কাজের) বিশাল বড় প্রমাণ। কে ২০৩-এর উৎপাদন এবং ভারতকে এর লাইসেন্স প্রদানও আমাদের পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার একটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য উদাহরণ, যা ভারতের জন্য একটি সাম্প্রতিক বিষয় এবং আমাদের কাছেও অত্যন্ত আগ্রহের বিষয়। আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছি, কিন্তু আবারও বলছি, আমি বিস্তারিত কিছু বলব না।'