ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গুলি ছুড়ল বিজিবি। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৮ মে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিএসএফ নাকি সীমান্তে চোরাচালানকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। এরপরই বিজিবি গুলি চালায়। তবে বিজিবির তরফ থেকে শূন্যে গুলি ছোড়া হয় নাকি নির্দিষ্ট কোনও লক্ষ্যবস্তু নিশানা করা হয়, তা স্পষ্ট হয়নি। তবে বিজিবির তরফ থেকে এই নিয়ে বিবৃতি জারি করা হয়েছে। ১৮ তারিখ গুলি চলার ঘটনা ঘটলেও ১৯ মে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তবে এখানে প্রশ্ন, পাচারকারীদের রক্ষা করতেই কি বিজিবি গুলি চালাল?

রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের মেঘালয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে বিএসএফ। এই আবহে বাংলাদেশি পাচারকারীদের লক্ষ্য করে বিএসএফ গুলি চালায়। এর পরপরই বিজিবির তরফ থেকে গুলি চালানো হয়। তবে এই ঘটনায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গিয়েছে। বিজিবির সিলেট ব্যাটালিয়নের তরফ থেকে বলা হয়, ঘটনাটি ঘটে গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্ত এলাকায়। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এদিকে বিএসএফ শুরু থেকেই সীমান্তে চোরাচালান রুখতে কড়া নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বিগত কয়েকদিন ধরেই কাঁটাতার এবং সীমান্ত হত্যা নিয়ে সরব বাংলাদেশি কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদরা। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের বহু পাচারকারী বিএসএফের গুলিতে মরে যায় সীমান্তে। এই নিয়ে বাংলাদেশিদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। ঢাকা বারবার 'সীমান্ত হত্যা' বন্ধের কথা বলছে। তবে পাচার এবং অনুপ্রবেশ রুখতে ব্যর্থ হচ্ছে বিজিবি। এই আবহে ভারতের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে বদ্ধপরিকর বিএসএফ। তবে বাংলাদেশের একাংশ যেন সীমান্ত অনুপ্রবেশকে তাদের 'জন্মসিদ্ধ অধিকার' হিসেবে মনে করছেন। এর আগে জায়গায় জায়গায় ভারতের বিএসএফ কাঁটাতার দিতে গেলে তাতে বাধা দিতে দেখা গিয়েছে বিজিবিকে। আবার বিজিবির বিরুদ্ধে অভিযোগ, বহু জায়গায় তারাই ঘুষ নিয়ে অনুপ্রবেশে 'সাহায্য' করে দেয়। তবে বিএসএফ গুলি চালালেই বাংলাদেশের মৌলবাদীরা সরব হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে সীমান্তে বিজিবির গুলি চালানোর ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল পরিস্থিতি। আর এখানেই প্রশ্ন, বিজিবি কি রাজনৈতিক কারণে তাই সীমান্তে গুলি চালাল? নাকি কাঙাল পাচারকারীদের রক্ষা করার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নিয়েছে তারা?