ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে জওয়ানদের অস্ত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। সীমান্তের বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় টহলরত জওয়ানদের হাতে এখন আর শুধু প্রচলিত ইনসাস রাইফেল নয়, দেখা যাচ্ছে নতুন প্রজন্মের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ত্রিশি অ্যাসাল্ট রাইফেল’ (TAR)।

দীর্ঘদিন ধরে বিএসএফের সীমান্ত টহলের প্রধান অস্ত্র ছিল ৫.৫৬×৪৫ মিমি ক্যালিবারের ইনসাস (INSAS) রাইফেল। বিশেষ পরিস্থিতিতে বা দ্রুত প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন হলে ব্যবহার করা হত ৯×১৯ মিমি ক্যালিবারের বেরেটা এমএক্স৪ স্টর্ম (Beretta MX4 Storm) সাবমেশিন গান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে জওয়ানদের হাতে নতুন ধরনের অস্ত্র দেখা যাওয়ায় নিরাপত্তা মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের ফুলবাড়ি সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বিএসএফ জওয়ানদের হাতে এখন নিয়মিত দেখা যাচ্ছে ৭.৬২×৩৯ মিমি ক্যালিবারের ত্রিশি অ্যাসাল্ট রাইফেল (TAR)। একে (AK) প্ল্যাটফর্মের নকশার ভিত্তিতে ভারতে তৈরি এই রাইফেলটি কাছাকাছি ও মাঝারি দূরত্বে লক্ষ্যভেদে অত্যন্ত কার্যকর বলে জানা গিয়েছে। অধিক শক্তিশালী গোলাবারুদ ও নির্ভরযোগ্যতার কারণে সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই অস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, ইনসাস রাইফেল এখনও বিএসএফের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাধারণ টহল ও সীমান্ত সুরক্ষার কাজে এর ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ক্লোজ-কোয়ার্টার অপারেশন বা আকস্মিক পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপের জন্য বেরেটা এমএক্স৪ স্টর্ম সাবমেশিন গানও বাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারে রয়েছে।
তবে ফুলবাড়ি সীমান্তে টিএআর রাইফেলের ব্যবহার বিএসএফের সামগ্রিক নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত কিনা, নাকি নির্দিষ্ট কোনও ব্যাটালিয়ন বা ইউনিটকে পরীক্ষামূলকভাবে এই অস্ত্র দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
{{/usCountry}}তবে ফুলবাড়ি সীমান্তে টিএআর রাইফেলের ব্যবহার বিএসএফের সামগ্রিক নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত কিনা, নাকি নির্দিষ্ট কোনও ব্যাটালিয়ন বা ইউনিটকে পরীক্ষামূলকভাবে এই অস্ত্র দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
{{/usCountry}}সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সীমান্তে চোরাচালান, অনুপ্রবেশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও অধিক কার্যকর অস্ত্র ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে নিরাপত্তা বাহিনী। তাঁদের মতে, উন্নত ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহার শুধু জওয়ানদের কার্যক্ষমতাই বাড়াবে না, সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করবে।