শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব পুরোপুরি কাটেনি। তার মধ্যেই দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে সচল রাখার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি যৌথ বিজনেস-টু-বিজনেস বা B2B টাস্কফোর্স তৈরির প্রস্তাব সামনে এসেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং সীমান্তপারের বাণিজ্যে থাকা বিভিন্ন জটিলতা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে।

২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন FBCCI-এর প্রশাসক মহম্মদ ফজলুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবনকুমার তুলশিদাস বাধে। সেখানেই তিনি যৌথ টাস্কফোর্স তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, এই উদ্যোগ এগিয়ে নিতে দুই দেশের সরকারের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতকেও এতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত টাস্কফোর্সের অন্যতম কাজ হবে দুই দেশের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে যে বাধাগুলি রয়েছে, সেগুলি চিহ্নিত করা এবং সমাধানের পথ খোঁজা। বৈঠকে শুল্ক ও অ-শুল্ক বাধা কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে পণ্যের মান যাচাই, প্রয়োজনীয় শংসাপত্র, কাস্টমসের বিভিন্ন নিয়ম, বন্দরের বিধিনিষেধ এবং পরিবহণ ও লজিস্টিক খরচ। এসব কারণে অনেক ক্ষেত্রে পণ্য আনা-নেওয়ার সময় এবং খরচ—দুটিই বেড়ে যায়। নতুন টাস্কফোর্স এই সমস্যাগুলিকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার একটি মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের ব্যবসায়ী মহলও উদ্যোগটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। FBCCI প্রশাসক ফজলুল হক মনে করেন, ভারত ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়লে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিশেষ করে নতুন ও সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}বাংলাদেশের ব্যবসায়ী মহলও উদ্যোগটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। FBCCI প্রশাসক ফজলুল হক মনে করেন, ভারত ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়লে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিশেষ করে নতুন ও সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}এই উদ্যোগের সময়টিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে একাধিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। শেখ হাসিনা ভারতে থাকার বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে আলোচনা চলছে। তাঁর আগে পরিকল্পিত একটি সফর বাতিল হয়েছিল এবং সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলনেও তিনি যোগ দিতে পারেননি।
অন্যদিকে বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও চাপের মধ্যে রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে দেশটির গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং শিল্পক্ষেত্রও তার প্রভাব অনুভব করছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখা দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও অর্থনীতি ও বাণিজ্যের পথ খোলা রাখার ক্ষেত্রে এই যৌথ টাস্কফোর্স কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। দুই দেশের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্যিক বাধাগুলি কমানো গেলে সম্পর্কের অন্য ক্ষেত্রগুলিতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।