যুক্তরাষ্ট্রকে ছাপিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক পার্টনার হয়েছে ভারত। এমনিতে বাংলাদেশে বিগত দিনে কট্টরপন্থীরা প্রতিনিয়ত 'ভারত বয়কটের' ডাক দিয়ে আসছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যে ভারতের অংশ ছিল ৮.৪৭ শতাংশ। এই সময়কালে ভারতের সাথে বাণিজ্যের মোট মূল্য ছিল প্রায় ১২৩ বিলিয়ন টাকা। এদিকে বাংলাদেশের বাণিজ্য অংশিদারিত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাগ ছিল ৮.৪৬ শতাংশ। তবে এই তালিকায় শীর্ষ স্থানে আছে চিন। বাংলাদেশের ২১ শতাংশ বাণিজ্য চিনের সঙ্গে।

এর আগে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। নতুন সরকারের পর এখন উন্নতি হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালের মে, অগস্ট এবং ডিসেম্বর মাসে ভারতকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য পার্টনার হিসেবে উঠে এসেছিল আমেরিকা। এই পরিবর্তনের পিছনে ৩টি প্রধান কারণ ছিল- মার্কিন আমদানি বৃদ্ধি, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা, আধিপত্যে পিছিয়ে পড়েছে ভারত।
মার্কিন আমদানি বৃদ্ধি: বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি, তুলো এবং গমের মতো পণ্য আমদানি বৃদ্ধি করেছে, যার ফরে বাংলাদেশের বাণিজ্য অংশিদারিত্বে ভাগ বেড়েছে আমেরিকার।
বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা: বাংলাদেশের শিল্পপতিদের মতে, ভারতের বাণিজ্য বাধা (যেমন আমদানি সীমা এবং শুল্ক বিলম্ব) এবং ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ভারতের সাথে বাণিজ্যকে প্রভাবিত হয়েছে।
চিনের আধিপত্য: চিন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে রয়ে গেছে। শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও তৈরি পণ্যের জন্য চীন থেকে আমদানির ওপর বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এর ফলে ভারতের থেকে এই সব পণ্য আমদানি কমিয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। এর প্রধান রফতানি ছিল কয়লা, ভোজ্যতেল, শিল্প কাঁচামাল। এছাড়াও, ব্রাজিল বাংলাদেশের পঞ্চম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। বাংলাদেশ প্রধানত ব্রাজিল থেকে সয়াবিন, চিনি, ভোজ্য তেল ও কৃষিপণ্য আমদানি করে। বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান তার বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্কের বহুমুখীকরণের লক্ষণ। তবে তারা ভারত ও পাকিস্তানের মতো দক্ষিণ এশীয় অর্থনীতির সাথে বাণিজ্য সুবিধা কাজে লাগানোর জন্যও জোর দিচ্ছে।
{{/usCountry}}বাংলাদেশের অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। এর প্রধান রফতানি ছিল কয়লা, ভোজ্যতেল, শিল্প কাঁচামাল। এছাড়াও, ব্রাজিল বাংলাদেশের পঞ্চম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। বাংলাদেশ প্রধানত ব্রাজিল থেকে সয়াবিন, চিনি, ভোজ্য তেল ও কৃষিপণ্য আমদানি করে। বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান তার বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্কের বহুমুখীকরণের লক্ষণ। তবে তারা ভারত ও পাকিস্তানের মতো দক্ষিণ এশীয় অর্থনীতির সাথে বাণিজ্য সুবিধা কাজে লাগানোর জন্যও জোর দিচ্ছে।
{{/usCountry}}