ভারতেই মদ প্রস্তুতকারক সংস্থা ও মদ্যপায়ীদের জন্য এক বিরাট ধাক্কা। নিম্নমানের ফ্লেভারিং ও রাসায়নিক উপাদান মেশানোর অভিযোগে একাধিক জনপ্রিয় হুইস্কি এবং রাম ব্র্যান্ডের বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। সরকারি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর দেখা গেছে, ব্র্যান্ডগুলিতে নির্দিষ্ট মানের চেয়ে খারাপ কোয়ালিটির কৃত্রিম এসেন্স ও এডিটিভস ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা মানবদেহের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে।

আবগারি দফতর ও খাদ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের যৌথ তদন্তে এই অনিয়ম ধরা পড়ে। এর পরেই বাজারে থাকা সমস্ত স্টক অবিলম্বে তুলে নেওয়ার আদেশ জারি করা হয়েছে। মদের মান নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এই কড়া পদক্ষেপ।
ভারতে মদ প্রস্তুতকারকদের জন্য নির্দিষ্ট আবগারি বিধি ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা মানদণ্ড (FSSAI) মেনে চলা বাধ্যতামূলক। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক গ্রাহকের অভিযোগ ও নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে সরকারি গবেষণাগারে বিভিন্ন মদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষাতেই ধরা পড়ে এক চাঞ্চল্যকর সত্য।
পরীক্ষায় কী তথ্য উঠে এসেছে?
আবগারি দপ্তরের গবেষণাগারে চালানো রাসায়নিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় ও বহুল বিক্রীত হুইস্কি এবং রাম ব্র্যান্ডে কৃত্রিম স্বাদ ও গন্ধ তৈরি করার জন্য যেসব ফ্লেভারিং এজেন্টস (Flavouring Agents) ব্যবহার করা হচ্ছিল, সেগুলি আন্তর্জাতিক ও জাতীয় মানের থেকে অনেক নিচে।
- অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত কেমিক্যাল: মদে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে অননুমোদিত কেমিক্যাল ও নিম্নমানের সিন্থেটিক এসেন্স মেশানো হয়েছিল, যা মানুষের লিভার, পাকস্থলী এবং নার্ভাস সিস্টেমের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
- উৎপাদন খরচ কমানোর প্রবণতা: প্রিমিয়াম স্বাদ দেওয়ার নাম করে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে এবং উৎপাদন খরচ কমাতে গিয়েই বেশ কিছু স্বনামধন্য সংস্থা এই ধরণের নিম্নমানের ফ্লেভার ব্যবহার করছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও বাজার থেকে স্টক বাতিল
নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পরপরই আবগারি দপ্তর সংশ্লিষ্ট মদ প্রস্তুতকারী ব্র্যান্ডগুলির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে:
- বিক্রি ও সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা: বিতর্কিত হুইস্কি ও রামের নির্দিষ্ট ব্যাচগুলির বিক্রি, বিতরণ এবং মদের দোকান বা বারগুলিতে সরবরাহের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
- দোকান থেকে ব্যাক-স্টক প্রত্যাহার: মদের দোকান ও গুদামগুলিতে থাকা সমস্ত বোতল অবিলম্বে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করে বিক্রি করলে দোকানের লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
- কারণ দর্শানোর নোটিশ: সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ড উৎপাদনকারী সংস্থাগুলিকে আবগারি আইনের আওতায় কারণ দর্শানোর (Show Cause) নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সন্তোষজনক উত্তর না মিললে ব্র্যান্ডগুলির রেজিস্ট্রেশন চিরতরে বাতিল হতে পারে।
গ্রাহক সচেতনতা ও আবগারি দপ্তরের নির্দেশিকা
{{/usCountry}}নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পরপরই আবগারি দপ্তর সংশ্লিষ্ট মদ প্রস্তুতকারী ব্র্যান্ডগুলির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে:
- বিক্রি ও সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা: বিতর্কিত হুইস্কি ও রামের নির্দিষ্ট ব্যাচগুলির বিক্রি, বিতরণ এবং মদের দোকান বা বারগুলিতে সরবরাহের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
- দোকান থেকে ব্যাক-স্টক প্রত্যাহার: মদের দোকান ও গুদামগুলিতে থাকা সমস্ত বোতল অবিলম্বে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করে বিক্রি করলে দোকানের লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
- কারণ দর্শানোর নোটিশ: সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ড উৎপাদনকারী সংস্থাগুলিকে আবগারি আইনের আওতায় কারণ দর্শানোর (Show Cause) নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সন্তোষজনক উত্তর না মিললে ব্র্যান্ডগুলির রেজিস্ট্রেশন চিরতরে বাতিল হতে পারে।
গ্রাহক সচেতনতা ও আবগারি দপ্তরের নির্দেশিকা
{{/usCountry}}আবগারি দপ্তরের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, “ভোক্তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। ব্র্যান্ড যত বড়ই হোক না কেন, মানদণ্ড লঙ্ঘন করলে কড়া শাস্তি পেতে হবে।” একই সাথে সাধারণ গ্রাহকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো মদের স্বাদ, রঙ বা গন্ধে অসঙ্গতি ধরা পড়লে সরাসরি আবগারি দপ্তরে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
মদের বাজারের মতো বিশাল রাজস্ব আদায়কারী ক্ষেত্রে প্রশাসনের এই নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ ভারতের খাদ্য ও পানীয় সুরক্ষায় এক নতুন বার্তা দিল। ভেজাল ও নিম্নমানের অ্যালকোহল বিক্রি বন্ধে আবগারি দপ্তরের এই অবস্থান ভবিষ্যতে অন্য প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকেও সততা বজায় রাখতে বাধ্য করবে।