...
...
Next Story

INDIA bloc next plans: ১ নভেম্বর দিল্লিতে ‘প্রতিবাদ সমাবেশ!’ রূপরেখা ঠিক করতে আলোচনায় ইন্ডিয়া জোট

INDIA bloc next plans: কংগ্রেসের এক সিনিয়র নেতা জানান, এখনও সুনির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কর্মসূচি নির্ধারণের কাজ করছে।

Published on: Oct 22, 2026, 13:40:58 IST
Advertisement

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী নভেম্বরের শুরুতেই নতুন করে আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা করছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশের পর আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ শুরু হতে পারে।

১ নভেম্বর দিল্লিতে ‘প্রতিবাদ সমাবেশ!’ রূপরেখা ঠিক করতে আলোচনায় ইন্ডিয়া জোট (Arvind Yadav/ Hindustan Times)
১ নভেম্বর দিল্লিতে ‘প্রতিবাদ সমাবেশ!’ রূপরেখা ঠিক করতে আলোচনায় ইন্ডিয়া জোট (Arvind Yadav/ Hindustan Times)

অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে ধারাবাহিক মিছিলের পর নতুন করে আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন বিরোধী নেতারা। আন্দোলন আরও জোরদার করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি বলেন, ‘এই পর্যায়ে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে আমাদের মিছিলগুলো রাজনৈতিকভাবে সফল হওয়ায় কয়েকজন নেতা আবারও ব্যাপক জনসমাগমের পক্ষে মত দিয়েছেন। আরেকটি প্রস্তাব হলো, একটি প্রতীকী সংসদ অধিবেশন আয়োজন করা, যেখানে জ্ঞানেশ কুমারকে অভিশংসনের প্রক্রিয়া দেখানো হবে। এ ছাড়া আরও কিছু পদক্ষেপের প্রস্তাব এসেছে।’

কংগ্রেসের এক সিনিয়র নেতা জানান, এখনও সুনির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কর্মসূচি নির্ধারণের কাজ করছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেনুগোপাল আগেই ঘোষণা করেছেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এখনও পর্যন্ত কী ঘটেছে?

গত ৯ অক্টোবর বিরোধী নেতারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাঁরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের আজীবন দায়মুক্তি দেওয়া ২০২৩ সালের আইন বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) অবিলম্বে স্থগিত করা এবং তালিকা থেকে অবৈধভাবে বাদ দেওয়া ১৩.৩ কোটি ভোটারের নাম অবিলম্বে পুনর্বহালের দাবি তোলেন তাঁরা। জবাবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিরোধীদের কাছে ভোট চুরির অভিযোগের প্রমাণ চান।

এরপর ১২ অক্টোবর রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিল করেন বিরোধী নেতারা। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পিটিশন জমা দেওয়ার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে-সহ অন্যান্য নেতারাও এতে অংশ নেন। পিটিশনে কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ করেন, চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের (এসআইআর) সময় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একতরফা ও স্বেচ্ছাচারীভাবে নির্বাচন কমিশনের সম্মিলিত ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন। তাঁরা নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনার দাবি জানান, যাতে সংবিধানস্বীকৃত সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। আবেদনে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অখণ্ডতা নিয়ে উদ্বেগ এবং যোগ্য নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়া ও ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। তবে আবেদনকারীরা স্পষ্ট করেছেন, এসআইআরের বৈধতা নিয়ে সামগ্রিকভাবে নতুন করে বিচার শুরু করার দাবি তাঁরা জানাচ্ছেন না।

সামনে যেসব কর্মসূচি

আগামী ১ নভেম্বর নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু করেছে কংগ্রেস ও বিরোধী জোটের অন্যান্য দল। তবে নবরাত্রি ও দুর্গাপুজোর কারণে আন্দোলনে যে বিরতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে আবারও গতি ফেরানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করছেন সিনিয়র নেতারা।

মক পার্লামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা সম্পর্কে এম এ বেবি বলেন, ‘আমরা বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিদের আমন্ত্রণ জানাব। সেখানে জ্ঞানেশ কুমারকে অভিশংসনের উদ্দেশ্যে একটি প্রতীকী বিচার আয়োজন করা হবে। একজন তার পক্ষে অবস্থান নিয়েও যুক্তি তুলে ধরবেন। তবে পুরো আয়োজনের উদ্দেশ্য হবে, বিভিন্ন অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে দায়ী, তা তুলে ধরা।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিরোধী জোটের আরেক সিনিয়র নেতা বলেন, পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্মিলিতভাবে নেওয়া হবে। কোনও দল এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নেবে না। আন্দোলনের পরিকল্পনা ও কর্মসূচি তদারক করতে ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটিও গঠন করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকার প্রতিবাদে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, ‘সব আন্দোলনই এক।’

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks