আবার এক টেবিলে বসতে চলেছে বিরোধী শিবির। কিন্তু সেই বৈঠকের আগেই তৈরি হল অস্বস্তির আবহ। ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের যৌথ কর্মসূচি ঠিক করাই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য। অথচ সেখানে থাকছেন না সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তাঁর অনুপস্থিতিকে ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

তবে অখিলেশ নিজেই জানিয়েছেন, অন্য একটি কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি দিল্লির বৈঠকে যেতে পারছেন না। তাঁর বদলে সমাজবাদী পার্টির কয়েক জন প্রবীণ নেতা বৈঠকে যোগ দেবেন। অখিলেশের বক্তব্য অনুযায়ী, এটিকে দলের তরফে ইন্ডিয়া জোট থেকে দূরে সরে যাওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত হিসাবে দেখা ঠিক হবে না। তিনি আরও জানিয়েছেন, বৈঠক নিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর কথাও হয়েছে।
তার পরেও জল্পনা থামছে না। কারণ ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোটের আগে সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেসের সম্পর্ক ইতিমধ্যেই আলোচনায়। দুই দলের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তার মধ্যে উত্তরপ্রদেশের রাজ্যসভা নির্বাচনও সামনে চলে এসেছে। আগামী ১৬ অক্টোবর রাজ্যের ১০টি রাজ্যসভা আসনে ভোট হওয়ার কথা। ফলে প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনী অঙ্ক নিয়ে লখনউতে অখিলেশের ব্যস্ততা বাড়ার কথাই জানিয়েছে সপা।
অন্য দিকে, ৩০ সেপ্টেম্বরের বৈঠককে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলির মধ্যে যোগাযোগ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপ এবং এসআইআর নিয়ে একজোট হয়ে আন্দোলনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কংগ্রেস, বাম দল এবং তৃণমূলের নেতাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই কথাবার্তা হয়েছে। তৃণমূলের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এই সমীকরণে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম আম আদমি পার্টি। আপ আনুষ্ঠানিক ভাবে বৈঠকে থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনও স্পষ্টতা নেই। দিল্লির বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে আপের সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছিল। এখন পঞ্জাবের ভোটও সামনে। ফলে দুই দলের মধ্যে সমন্বয়ের প্রশ্ন নতুন করে উঠেছে।
{{/usCountry}}এই সমীকরণে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম আম আদমি পার্টি। আপ আনুষ্ঠানিক ভাবে বৈঠকে থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনও স্পষ্টতা নেই। দিল্লির বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে আপের সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছিল। এখন পঞ্জাবের ভোটও সামনে। ফলে দুই দলের মধ্যে সমন্বয়ের প্রশ্ন নতুন করে উঠেছে।
{{/usCountry}}এর মধ্যেই সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি রবিবার দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নির্বাচন কমিশন এবং এসআইআর নিয়ে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের প্রয়োজন রয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বেবি আগে থেকেই বিরোধী দলগুলিকে একসঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এদিকে, ২৯ সেপ্টেম্বর কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে দলের পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে, বিশেষ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে দলের অবস্থান কী হবে, সেই বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। তার ঠিক পরের দিনই বসছে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক। ফলে পরপর দুদিনের এই রাজনৈতিক বৈঠকের দিকে নজর রয়েছে দিল্লির।
সব মিলিয়ে অখিলেশের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা থাকলেও এটিকে এখনই ইন্ডিয়া জোটে ভাঙনের ইঙ্গিত বলা যাচ্ছে না। বরং নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকার প্রশ্নে বিরোধী দলগুলি কতটা অভিন্ন কর্মসূচিতে পৌঁছতে পারে, ৩০ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের পরেই তার ছবি অনেকটা স্পষ্ট হবে।