Russia on India Buying Arctic LNG: ভারত ও রাশিয়ার জ্বালানি সহযোগিতা আরও এক ধাপ এগোতে পারে। রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলে উৎপাদিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (Liquefied Natural Gas বা LNG) কেনার বিষয়ে ভারত আগ্রহী বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার বিদেশ প্রতিমন্ত্রী আন্দ্রে রুডেঙ্কো। 'রাশিয়ান আর্কটিক অ্যান্ড ফার ইস্ট ডেভেলপমেন্ট' পোর্টালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের জ্বালানি সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেই লক্ষ্যেই আর্কটিক অঞ্চলের এলএনজি ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

আন্দ্রে রুডেঙ্কোর মতে, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে কয়েক দশক ধরে তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রের যৌথ উন্নয়নই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তিনি জানান, ভারতের সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই রাশিয়ার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস প্রকল্পে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ভানকরনেফ্ট (Vankorneft), তাস-ইউরিয়াখ নেফতেগাজোদোবিচা (Taas-Yuryakh Neftegazodobycha) এবং বহুল পরিচিত সাখালিন-১ (Sakhalin-1) প্রকল্প। এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় এবার রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলে উৎপাদিত এলএনজি কেনার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে ভারত।
রুশ বিদেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের জ্বালানি মানচিত্রে আর্কটিক অঞ্চল ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিপুল ভাণ্ডার রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ভূমিকা নিতে পারে। ভারত যদি এই অঞ্চলের এলএনজি আমদানি শুরু করে, তাহলে দুই দেশের জ্বালানি অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাও বাড়বে।
রুডেঙ্কো আরও জানান, ২০২৪ সালে রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য অঞ্চলে ২০২৪-২০২৯ সময়কালের জন্য বাণিজ্য, অর্থনীতি এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলে সহযোগিতার নীতিমালাও তৈরি হয়েছে। এই কাঠামোর মাধ্যমে দুই দেশ শুধু জ্বালানি নয়, অবকাঠামো, বিনিয়োগ, বন্দর উন্নয়ন এবং অন্যান্য কৌশলগত ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি গ্রাহক হিসেবে ভারতের কাছে জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চল থেকে এলএনজি আমদানির সম্ভাবনা ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহের অনিশ্চয়তার মধ্যেও নির্ভরযোগ্য অংশীদারের কাছ থেকে গ্যাস সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
{{/usCountry}}বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি গ্রাহক হিসেবে ভারতের কাছে জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চল থেকে এলএনজি আমদানির সম্ভাবনা ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহের অনিশ্চয়তার মধ্যেও নির্ভরযোগ্য অংশীদারের কাছ থেকে গ্যাস সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
{{/usCountry}}ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ভারত ও রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারত ইতিমধ্যেই রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে। এবার যদি আর্কটিক অঞ্চলের এলএনজি কেনার পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।