...
...
Next Story

India slams China-Pakistan: UNSC-তে চিন-পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতের, জঙ্গিদের আড়াল না করার হুঁশিয়ারি

ভারতের দাবি, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদ কোনও দেশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়। কোনও সন্ত্রাসবাদীকে নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে সরিয়ে তাকে কার্যত বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না। একই ভাবে, রাজনৈতিক কারণে কোনও সংগঠনকে জঙ্গি ঘোষণা করাও সমর্থনযোগ্য নয়।

Published on: Aug 20, 2026, 10:41:26 IST
Advertisement

রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারত ফের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া অবস্থান জানাল। চিন ও পাকিস্তানের নাম সরাসরি না নিলেও তাদের উদ্দেশেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদীদের রক্ষা করতে রাষ্ট্রসংঘের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ব্যবহার করা যাবে না। নিরাপত্তা পরিষদের কার্যপ্রণালী নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনায় রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি যোজনা প্যাটেল এই বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, জঙ্গিদের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নাম তোলা বা তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা দরকার।

রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি যোজনা প্যাটেল
রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি যোজনা প্যাটেল

ভারতের দাবি, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদ কোনও দেশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়। কোনও সন্ত্রাসবাদীকে নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে সরিয়ে তাকে কার্যত বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না। একই ভাবে, রাজনৈতিক কারণে কোনও সংগঠনকে জঙ্গি ঘোষণা করাও সমর্থনযোগ্য নয়। ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, রাষ্ট্রসংঘ যেন কোনও নির্দিষ্ট দেশের রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণের মঞ্চে পরিণত না হয়। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত প্রমাণ এবং নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে।

ভারতের এই বক্তব্যের পিছনে চিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরেই চিন রাষ্ট্রসংঘের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটিতে পাকিস্তানভিত্তিক বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় প্রস্তাবে বাধা দিয়ে আসছে। লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদের মতো সংগঠনের নেতাদের আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগেও চিন একাধিকবার ‘টেকনিক্যাল হোল্ড’ দিয়েছে বলে অভিযোগ ভারতের।

নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে চিনের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। ফলে তাদের আপত্তি থাকলে কোনও প্রস্তাব আটকে যেতে পারে। ভারত দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরব। নয়াদিল্লির অভিযোগ, এর ফলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ রাজনৈতিক সমীকরণের কাছে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

এদিনের আলোচনায় শুধু সন্ত্রাসবাদ নয়, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের দাবিও জোরালো করেছে ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালে তৈরি কাঠামো দিয়ে আজকের বিশ্বের বাস্তবতাকে বিচার করা যায় না।

ভারত বলেছে, গত ৮০ বছরে রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশের সংখ্যা প্রায় চার গুণ হয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোয় পরিবর্তন আসেনি। ফলে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার প্রতিফলন সেখানে দেখা যায় না।

নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী এবং অস্থায়ী—দুই ধরনের সদস্যপদেই আরও দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে ভারত। বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

ভারতের মতে, আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল অঞ্চলের দেশগুলির স্বার্থও নিরাপত্তা পরিষদে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন। বিশ্ব রাজনীতি বদলেছে। অর্থনীতি বদলেছে। নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জও বদলেছে। তাই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির কাঠামোও সময়ের সঙ্গে বদলানো দরকার।

সব মিলিয়ে UNSC-তে ভারতের বার্তা ছিল দ্বিমুখী। একদিকে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থা। অন্যদিকে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোয় সংস্কার। চিন-পাকিস্তানের মতো দেশের রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রসংঘকে আরও কার্যকর করার পক্ষেই সওয়াল করেছে নয়াদিল্লি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe