ভারত এবং কানাডার মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার পথে দ্রুত এগোচ্ছে দুই দেশ। প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখন আরও গতি পেয়েছে। পরিস্থিতি এমনই যে, এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় বার ভারতে আসতে পারেন কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী মানিন্দর সিধু। অক্টোবরের মাঝামাঝি তাঁর দিল্লি সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। লক্ষ্য একটাই, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্ভাব্য কানাডা সফরের আগেই ভারত কানাডা বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শেষ করা।

দুই দেশের মধ্যে যে চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে তার নাম কমপ্রিহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট বা সিইপিএ। সূত্রের খবর, আগামী ৫ অক্টোবর কানাডায় এই চুক্তি নিয়ে পঞ্চম দফার আলোচনা হওয়ার কথা। সেই বৈঠক শেষ হওয়ার পরই প্রায় ১৫ অক্টোবরের কাছাকাছি সময়ে ভারতে আসতে পারেন সিধু। দিল্লিতে এসে তিনি কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গিয়েছে।
অক্টোবরের এই সফর শুধু মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। একই সময়ে কানাডার একটি বড় বাণিজ্য প্রতিনিধিদলও ভারতে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভারতীয় বাজারে নতুন ব্যবসার সুযোগ, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের সংস্থাগুলির মধ্যে অংশীদারিত্ব বাড়ানোই হবে তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
চুক্তির আলোচনায় এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাকি থাকলেও সরকারি পর্যায়ে বেশির ভাগ জটিলতা মিটে গিয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এখন যে বিষয়গুলিতে মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলি মেটাতে মন্ত্রী পর্যায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে। পীযূষ গয়ালও সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, ভারত কানাডা বাণিজ্য আলোচনায় এ বার রাজনৈতিক স্তরের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা যাবে।
এরই মধ্যে বাণিজ্যসচিব রাজেশ আগরওয়ালের কানাডার শীর্ষ বাণিজ্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। মেক্সিকো সফরের পথে কানাডায় গিয়ে তিনি আলোচনা করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। ভারত একই সঙ্গে মেক্সিকোর সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।
{{/usCountry}}এরই মধ্যে বাণিজ্যসচিব রাজেশ আগরওয়ালের কানাডার শীর্ষ বাণিজ্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। মেক্সিকো সফরের পথে কানাডায় গিয়ে তিনি আলোচনা করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। ভারত একই সঙ্গে মেক্সিকোর সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।
{{/usCountry}}ডিসেম্বরের মাঝামাঝি নরেন্দ্র মোদীর আমেরিকা, কানাডা এবং বেলজিয়াম সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। আমেরিকায় জি২০ বৈঠকে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি কানাডা এবং বেলজিয়ামে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্য থাকতে পারে তাঁর সফরে। ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিও বেলজিয়াম সফরের সময় স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
ভারত কানাডার সম্পর্ক একসময় তীব্র সংকটের মধ্যে পড়েছিল। খলিস্তানি নেতা হরদীপ সিংহ নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় এজেন্টদের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিলেন তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ভারত সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছিল। এর পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে একাধিক কঠিন পদক্ষেপ দেখা যায়।
তবে ২০২৫ সালে মার্ক কার্নি কানাডার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। দুই দেশই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। পাশাপাশি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যেও কানাডা ভারতের মতো বড় বাজারের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বাড়াতে আগ্রহী।
বর্তমানে ভারত কানাডার দ্বিপাক্ষিক পণ্য এবং পরিষেবা বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩০.৪ বিলিয়ন ডলার। দুই দেশের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে সেই বাণিজ্য ৭০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া। কানাডা ভারতকে জ্বালানি, খনিজ, কাঠের মণ্ড এবং বিভিন্ন পণ্য রফতানি করে। অন্য দিকে ভারত থেকে কানাডায় যায় মূল্যবান পাথর, ধাতু, যন্ত্রপাতি এবং ওষুধ-সহ একাধিক পণ্য।
সব মিলিয়ে মোদীর সম্ভাব্য কানাডা সফরের আগে বাণিজ্য চুক্তি সই করানোর জন্য দিল্লি এবং অটোয়া দু পক্ষই দ্রুত আলোচনা শেষ করতে চাইছে। অক্টোবরের বৈঠকগুলি তাই দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।