দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ভারত কানাডা সম্পর্ক এবার অর্থনীতির পথে নতুন গতি পেতে চলেছে। দুই দেশের প্রস্তাবিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট বা সিইপিএ চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করতে চাইছে কানাডা। আজ, ৫ অক্টোবর থেকে অটোয়ায় শুরু হচ্ছে ভারত কানাডা বাণিজ্য আলোচনার পঞ্চম দফা। কানাডার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী মনিন্দর সিধুর দাবি, আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে খুব শীঘ্রই চুক্তি চূড়ান্ত করতে চাইছে তাঁর দেশ। চলতি বছরের শেষের মধ্যে চুক্তি শেষ করার লক্ষ্যও রয়েছে দুই দেশের।
পঞ্চম দফার আলোচনা অটোয়ায়

ভারত এবং কানাডার মধ্যে সিইপিএ নিয়ে পঞ্চম দফার আলোচনা চলবে ৫ থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত। গত কয়েক মাসে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় মুম্বইয়ে চতুর্থ দফার আলোচনা হয়েছিল। পরে দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠকেও দ্রুত আলোচনা শেষ করার উপর জোর দেওয়া হয়।
কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী সিধু জানিয়েছেন, ভারত কানাডার বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর মতে, দুই দেশ এমন একটি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে যা বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ দুই ক্ষেত্রেই নতুন দরজা খুলতে পারে। সেপ্টেম্বরেই ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়ালের সঙ্গে বৈঠকের পর সিধু জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের মধ্যেই পারস্পরিক ভাবে লাভজনক সিইপিএ চুক্তি শেষ করার বিষয়ে কানাডার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
ভারতে আসছেন সিধু, সঙ্গে বড় ব্যবসায়ী দল
শুধু আলোচনার টেবিলেই নয়, সরাসরি ভারতীয় বাজারে কানাডার উপস্থিতি বাড়াতেও উদ্যোগ নিচ্ছে অটোয়া। আগামী ১২ থেকে ১৭ অক্টোবর ভারত সফরে আসবেন মনিন্দর সিধু। তাঁর নেতৃত্বে আসবে বড়সড় ‘টিম কানাডা ট্রেড মিশন’। মুম্বই এবং বেঙ্গালুরুতে হবে একাধিক বৈঠক ও ব্যবসায়িক কর্মসূচি। কানাডার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতিনিধি দলে একাধিক ক্ষেত্রের ব্যবসায়ী এবং শিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরা থাকবেন।
অর্থাৎ, একদিকে সিইপিএ নিয়ে পঞ্চম দফার আলোচনা, অন্য দিকে তার পরেই কানাডার ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের ভারত সফর। সব মিলিয়ে দ্রুত বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর বার্তা স্পষ্ট।
কোন কোন ক্ষেত্রে নজর
{{/usCountry}}অর্থাৎ, একদিকে সিইপিএ নিয়ে পঞ্চম দফার আলোচনা, অন্য দিকে তার পরেই কানাডার ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের ভারত সফর। সব মিলিয়ে দ্রুত বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর বার্তা স্পষ্ট।
কোন কোন ক্ষেত্রে নজর
{{/usCountry}}সিইপিএ আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশ শক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, মহাকাশ এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে। কানাডার কাছে শক্তি এবং ক্রিটিক্যাল মিনারেল বড় সম্পদ। আর ভারতের কাছে দ্রুত বাড়তে থাকা বাজার এবং শিল্পের চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ। এই দুইয়ের সমন্বয়েই নতুন বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে দুই দেশ।
কানাডার ট্রেড মিশনের অগ্রাধিকার ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে মহাকাশ, পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি, শক্তি রূপান্তর, তথ্যপ্রযুক্তি, জীবনবিজ্ঞান, কৃষি খাদ্য এবং কাঠ শিল্প। ফলে ভবিষ্যতে ভারতীয় সংস্থার জন্যও কানাডার বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
৭০ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের লক্ষ্য
সবচেয়ে বড় লক্ষ্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানো। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্ক কার্নি ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৭০ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারে পৌঁছনোর লক্ষ্য নিয়েছেন। সিইপিএ চুক্তি সেই লক্ষ্য পূরণের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হতে পারে।
তবে চুক্তি চূড়ান্ত করা সহজ হবে না। বাজারে প্রবেশের সুযোগ, শুল্ক, পরিষেবা, বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন নিয়মকানুন নিয়ে দুই দেশের স্বার্থের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সেই সব বাধা সরিয়েই ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে।
কূটনৈতিক বরফ গলে এবার বাণিজ্যের উষ্ণতা
২০২৩ সালের পর ভারত কানাডা সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। তার প্রভাব পড়েছিল বাণিজ্য আলোচনাতেও। কিন্তু এখন সেই পুরনো অস্বস্তি অনেকটাই সরিয়ে দুই দেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ককে সামনে আনতে চাইছে।
কানাডার জন্য ভারত শুধু একটি বড় বাজার নয়, আমেরিকার উপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাণিজ্যিক অংশীদার খোঁজার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। আর ভারতের কাছে কানাডা গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, খনিজ এবং উচ্চ প্রযুক্তির উৎস হতে পারে।
সব মিলিয়ে, আজ থেকে শুরু হওয়া পঞ্চম দফার আলোচনা তাই শুধু আর একটি বৈঠক নয়। এর উপর অনেকটাই নির্ভর করছে ভারত কানাডার নতুন বাণিজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ। আর আগামী সপ্তাহেই বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল নিয়ে সিধুর ভারত সফর বুঝিয়ে দিচ্ছে, এবার আর শুধু আলোচনা নয়, দ্রুত ফল চায় কানাডা।