India-China Army LAC Meeting: ভারত-চিন সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি এবার সামরিক স্তরেও যোগাযোগ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর সেই প্রক্রিয়ারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অরুণাচল প্রদেশে প্রথমবারের মতো ভারত ও চিনের কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ, এই বৈঠকের আগে মাত্র কয়েকদিন আগেই বেজিং সফর করেছিলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।

গত ২৫ অগস্ট বেজিংয়ে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে ২৫তম দফার বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা করেন ডোভাল। সেই বৈঠকে দুই দেশই সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার উপর জোর দেয়। পাশাপাশি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার জন্য সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ডোভাল ও ওয়াং ই-র বৈঠকের পরেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে শুধু লাদাখে সীমান্ত আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকবে না। এতদিন লাদাখে ভারতীয় ১৪ কর্পসের কমান্ডার এবং চিনের সমপদমর্যাদার সামরিক আধিকারিকের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা করার ব্যবস্থা ছিল। এবার সেই ধরনের বৈঠকের পরিধি বাড়িয়ে মধ্য ও পূর্বাঞ্চলেও নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মধ্যাঞ্চলের মধ্যে রয়েছে হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড, আর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশ।
এই সিদ্ধান্তের পর অরুণাচল সীমান্তে প্রথম কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক হওয়াকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকটি হয়েছে LAC-এর কাছে ওয়াচা-দামাই বর্ডার মিটিং পয়েন্টে, কিবিথুর কাছে। ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল গিরিশ কালিয়া, যিনি ৩ কর্পসের কমান্ডার।
অরুণাচল নিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ রয়েছে। চিন অরুণাচলকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে, আর ভারত এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। ফলে এই অঞ্চলে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা নয়াদিল্লির কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
{{/usCountry}}অরুণাচল নিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ রয়েছে। চিন অরুণাচলকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে, আর ভারত এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। ফলে এই অঞ্চলে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা নয়াদিল্লির কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
{{/usCountry}}ডোভাল-বাং ই বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল নতুন সামরিক হটলাইন চালু করা। পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের জন্য অতিরিক্ত দুটি হটলাইন তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে সীমান্তে হঠাৎ কোনও সমস্যা বা উত্তেজনা তৈরি হলে দুই দেশের সামরিক কমান্ডাররা দ্রুত যোগাযোগ করতে পারবেন। লক্ষ্য একটাই—কোনও ঘটনা যাতে ভুল বোঝাবুঝি থেকে বড় সংঘাতে পরিণত না হয়।
দুই দেশই এ বার সীমান্তে কোনও সমস্যার দ্রুত সমাধানের উপর জোর দিয়েছে। প্রয়োজন হলে কূটনৈতিক ও সামরিক—দুই মাধ্যমেই বিষয়গুলি দ্রুত মোকাবিলা করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রেখে ভবিষ্যতে একটি ন্যায্য ও পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সীমান্ত সমাধানের দিকেও এগোনোর কথা হয়েছে।
শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, ডোভালের বেজিং সফরের পর ভারত-চিন সম্পর্কের আরও কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় আরও ভারতীয় তীর্থযাত্রীর সুযোগ, নতুন সীমান্ত বাণিজ্য কেন্দ্র, জল সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় আরও যোগাযোগ বাড়ানোর মতো বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। ডোভাল ও ওয়াং ই আগামী বছর ফের বৈঠক করবেন বলেও জানানো হয়েছে।
তাই অরুণাচলে এই বৈঠককে শুধু একটি সামরিক বৈঠক হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। বেজিংয়ে ডোভাল ও ওয়াং ই-র আলোচনার পর সীমান্তে যে নতুন যোগাযোগ কাঠামো তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অরুণাচলের কোর কমান্ডার বৈঠক তারই বাস্তব প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। সীমান্তে মতবিরোধ থাকলেও ভারত ও চিন আপাতত সংঘাতের বদলে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পথেই এগোতে চাইছে।