...
...
Next Story

India-China LAC Hotline: সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে ভারত-চিনের বড় সমঝোতা, পূর্ব ও মধ্য সেক্টরে LAC-তে বাড়ছে হটলাইন

জানা গিয়েছে, মোটামুটি আটটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল জেনারেল লেভেল মেকানিজম এবং সিনিয়র হায়েস্ট মিলিটারি কমান্ডারদের বৈঠকের জন্য আরও দুটি অতিরিক্ত মিটিং পয়েন্ট তৈরি করা।

Published on: Aug 27, 2026, 12:38:26 IST
Advertisement

India-China LAC Hotline: ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল করতে বড়সড় সমঝোতা হল। পূর্ব ও মধ্য সেক্টরে সামরিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার লক্ষ্যে নতুন বৈঠককেন্দ্র এবং অতিরিক্ত সামরিক হটলাইন চালুর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ। মঙ্গলবার বেজিংয়ে ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম দফার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র নেতৃত্বে বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা ও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পাশাপাশি পূর্ব ও মধ্য সেক্টরে সীমান্তবর্তী সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের জন্য আরও দুটি সামরিক হটলাইন চালুর বিষয়ে সম্মতি হয়েছে।
পাশাপাশি পূর্ব ও মধ্য সেক্টরে সীমান্তবর্তী সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের জন্য আরও দুটি সামরিক হটলাইন চালুর বিষয়ে সম্মতি হয়েছে।

জানা গিয়েছে, মোটামুটি আটটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল জেনারেল লেভেল মেকানিজম এবং সিনিয়র হায়েস্ট মিলিটারি কমান্ডারদের বৈঠকের জন্য আরও দুটি অতিরিক্ত মিটিং পয়েন্ট তৈরি করা। পাশাপাশি পূর্ব ও মধ্য সেক্টরে সীমান্তবর্তী সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের জন্য আরও দুটি সামরিক হটলাইন চালুর বিষয়ে সম্মতি হয়েছে।

ভারত-চিনের মধ্যে প্রায় ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা LAC তিনটি প্রধান সেক্টরে বিভক্ত—পশ্চিম, মধ্য এবং পূর্ব। সীমান্তে কোনও সমস্যা তৈরি হলে স্থানীয় কমান্ডারদের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের জন্য ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে। পশ্চিম সেক্টরে স্থানীয় কমান্ডারদের জন্য দুটি সক্রিয় সামরিক হটলাইন রয়েছে। পূর্ব সেক্টরেও দুটি হটলাইন চালু রয়েছে। এবার মধ্য ও পূর্ব সেক্টরে আরও যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হলে সীমান্তে ছোটখাটো সমস্যা দ্রুত সমাধানের সুযোগ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

দুই দেশ আরও জানিয়েছে, LAC নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি, ভুল হিসাব বা অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা এড়াতে পরিস্থিতির দ্রুত মোকাবিলা করা হবে। সীমান্তের উপযুক্ত এলাকায় LAC সম্পর্কে পারস্পরিক বোঝাপড়া উন্নত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এর লক্ষ্য হল সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগের ঘাটতি কমানো।

সীমান্ত নির্ধারণের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। ‘Early and substantial harvest’-এর লক্ষ্যে Boundary Delimitation বিষয়ক Expert Group এবং WMCC-এর অধীনে Working Group on Border Management-কে সংশ্লিষ্ট আলোচনায় অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে দুই গোষ্ঠী নিজেদের কাজের পরিধি বা Terms of Reference চূড়ান্ত করবে।

ভারত ও চিনের পক্ষ থেকে আবারও জানানো হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির অন্যতম শর্ত। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের দেওয়া নির্দেশিকা মেনে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

একইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সীমান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও সম্মতি জানিয়েছে দুই দেশ। ২০০৫ সালের ‘Political Parameters and Guiding Principles for Settlement of the India-China Boundary Question’ চুক্তি এবং পরবর্তী বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতে একটি ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত এবং উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধানের কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে LAC-কে ঘিরে ভারত-চিন সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষিতে এই সমঝোতাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি, তবু যোগাযোগ বাড়ানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সমস্যা মেটানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের পরবর্তী অর্থাৎ ২৬তম দফার বৈঠক ২০২৭ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে আগামী দিনে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, LAC-এ যোগাযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি সীমান্ত সমাধান—এই তিন ক্ষেত্রেই ভারত ও চিনের আলোচনার পরিধি আরও বাড়তে পারে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe