...
...
Next Story

Tarique Rahman Update: ভারত নিয়ে ডাহা মিথ্যা তারেক রহমানের বাংলাদেশের, পর্দা ফাঁস করল দিল্লি

মঙ্গলবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পরে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে ব্রিকস সম্মেলনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। অর্থাৎ দুই ক্ষেত্রেই আমন্ত্রণ ছিল পৃথক এবং আনুষ্ঠানিক।

Published on: Sep 16, 2026, 08:06:18 IST
Advertisement

ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার সরাসরি অবস্থান স্পষ্ট করল নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, ঢাকার প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি নয়, দুটি পৃথক আমন্ত্রণ পৌঁছেছিল। একটি ছিল ভারত সফরের জন্য দ্বিপাক্ষিক আমন্ত্রণ এবং অন্যটি ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ’ পর্বে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ। ফলে ব্রিকস নিয়ে ঢাকার তরফে যে ব্যাখ্যা সামনে এসেছিল, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। কারণ ঢাকার বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাকি তারেককে ডাকেনি ভারত। তাই মুখ ফুলিয়ে বসেছিল তারা। সেই অজুহাতেই আবার ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়ে ভারতে না আসারও সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা। তবে তাদের ডাহা মিথ্যার পর্দা এবার ফাঁস হয়ে গেল।

ভারত নিয়ে ডাহা মিথ্যা তারেক রহমানের বাংলাদেশের, পর্দা ফাঁস করল দিল্লি (REUTERS)
ভারত নিয়ে ডাহা মিথ্যা তারেক রহমানের বাংলাদেশের, পর্দা ফাঁস করল দিল্লি (REUTERS)

মঙ্গলবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পরে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে ব্রিকস সম্মেলনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। অর্থাৎ দুই ক্ষেত্রেই আমন্ত্রণ ছিল পৃথক এবং আনুষ্ঠানিক।

এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ব্রিকস সম্মেলন শুরুর আগে বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই কারণ দেখিয়েই ঢাকা জানিয়েছিল, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর যোগ দেওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছিল, তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর বহুপাক্ষিক কোনও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক সফর হিসেবেই হওয়া উচিত।

কিন্তু নয়াদিল্লির সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই ব্যাখ্যাকে জটিল করে দিয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ ছিল ঠিকই, কিন্তু তার পাশাপাশি তারেক রহমানকে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আলাদা আমন্ত্রণও দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ দেওয়া হয়নি’—এই বক্তব্য দিয়ে গোটা বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না।

ভারতের দৃষ্টিতে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বিমসটেক মূলত বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। বাংলাদেশ বর্তমানে সংগঠনটির চেয়ারম্যান হওয়ায় তারেক রহমানকে সেই পরিচয়ে ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো কূটনৈতিকভাবেও অস্বাভাবিক নয়। একইসঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে ভারত দুই দেশের সরাসরি সম্পর্ককেও গুরুত্ব দিয়েছে।

তাই ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতি এখন শুধু একটি আন্তর্জাতিক বৈঠকে যোগ না দেওয়ার ঘটনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঢাকা-নয়াদিল্লির কূটনৈতিক বার্তাও। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে কারণ দেখানো হয়েছিল, ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্যে তার সঙ্গে নতুন তথ্য যুক্ত হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—ঢাকা কি আমন্ত্রণের প্রকৃতি নিয়ে বিষয়টিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল করে তুলেছিল? নাকি দু’দেশ একই ঘটনাকে ভিন্ন কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করছে?

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—নয়াদিল্লি এখনও তারেক রহমানের দ্বিপাক্ষিক ভারত সফরের দরজা বন্ধ করেনি। বরং ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেই আমন্ত্রণ বহাল রয়েছে। এখন নজর থাকবে ঢাকার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks