ইরান যুদ্ধের আবহে ভারতে ইতিমধ্যেই গ্যাসের সংকটের আভাস দেখা দিয়েছে। এর জেরে দক্ষিণ ভারতে বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইয়ের মতো শহরে একাধিক হোটেল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের বাড়িতে যাতে গ্যাসের সংকট না হয়, তার জন্য বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহে কাটছাঁট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এই পরিস্থিতিতে বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইতে নাকি হোটেল সংগঠনগুলি বলেছে, ১০ মার্চ থেকে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে তারা হোটেল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।

বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইতে হোটেল সংগঠনগুলি দাবি করে, ৯ মার্চ থেকেই ডিস্ট্রিবিউটররা গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এর জেরে ইতিমধ্যেই অনেক রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এদিকে বিয়ের মরশুমে অনেক বিয়েবাড়ি আর বুকিং নিচ্ছে না। এদিকে জাতীয় রেস্তোরাঁ সংগঠনের তরফ থেকেও এই পরিস্থিতিতে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে। গুরুগ্রাম এবং মুম্বইয়ের মতো শহরেও হোটেল মালিকদের মনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই সব শহরেও নাকি সিলিন্ডার সরবরাহ স্বাভাবিক নয়। এই আবহে মুম্বইয়ের বহু জায়গার রেস্তোরাঁয় কম আঁচে রান্না করা আইটেম বাদ দেওয়া হয়েছে মেন্যু থেকে। কারণ এই সব রান্নায় বেশি গ্যাস খরচ হয়। এদিকে পুনেতে গ্যাস চালিত শ্মশান বন্ধ করা হয়েছিল অস্থায়ী ভাবে।
উল্লেখ্য, ভারতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করার জন্য একধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম না বাড়লেও বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। এদিকে গ্যাস সিলিন্ডার বুকিংয়ের ক্ষেত্রে চালু হয়েছে নয়া নিয়ম। এখন থেকে ২৫ দিন অন্তর অন্তর সিলিন্ডারের বুকিং করা যাবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে কয়েকশো তেলের ট্যাঙ্কার আটকে আছে। এর মধ্যে ভারতেরও ৩০টিরও বেশি জাহাজ রয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে ভারতসহ সারা বিশ্বে তেলের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেলের আমদানি হরমুজ প্রণালী থেকে আসে। এটা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি রুট। এবং এই রুটটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার জেরে অন্য বিকল্পের খোঁজে গোটা বিশ্ব। এদিকে ভারতের ক্ষেত্রে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা সম্ভব। তবে গ্যাসের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারে দেশ।