...
...
Next Story

MSCI EM Index: ২৬ বছরে নজিরবিহীন পতন! MSCI EM ইনডেক্সের শীর্ষ ১০ থেকে ছিটকে গেল ভারত, এর অর্থ কী?

MSCI EM Index: ‘এমএসসিআই ইএম ইনডেক্স’ বিশ্বব্যাপী প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজির একটি বড় অংশের বিনিয়োগের নির্দেশিকা বা রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করে। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যাসিভ ফান্ড বা নিষ্ক্রিয় তহবিলগুলো এমএসসিআই ইএম-এর ওপর ভিত্তি করে ৭০,০০০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের সম্পদ পরিচালনা করে।

Published on: Jun 11, 2026, 14:45:35 IST
Advertisement

MSCI EM Index: ২০০০ সালের পর এই প্রথমবার, বিশ্বখ্যাত ‘এমএসসিআই ইমার্জিং মার্কেটস ইনডেক্স’-এর শীর্ষ ১০টি সংস্থার তালিকায় ভারতের কোনও কোম্পানি স্থান পায়নি। এটি এমন একটি আন্তর্জাতিক সূচক বা বেঞ্চমার্ক, যা বিশ্বজুড়ে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে হাজার হাজার কোটি ডলারের তহবিল বরাদ্দ বা বিনিয়োগের রূপরেখা নির্ধারণ করে।

MSCI EM ইনডেক্সের শীর্ষ ১০ থেকে ছিটকে গেল ভারত (an AI-generated image)
MSCI EM ইনডেক্সের শীর্ষ ১০ থেকে ছিটকে গেল ভারত (an AI-generated image)

এই সূচকে ভারতের সবচেয়ে বড় দুই অংশীদার-এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পিছিয়ে যথাক্রমে ১১তম ও ১২তম স্থানে চলে গেছে, যা গত মার্চ মাসেও সপ্তম ও অষ্টম স্থানে ছিল। সূচকে এই দুটি সংস্থার নিজস্ব অংশীদারিত্ব বা ওয়েটেজ কমে প্রতিটি এখন ০.৮ শতাংশের নিচে নেমে গিয়েছে। এর ফলে সূচকে ভারতের সামগ্রিক ওয়েটেজ কমে দাঁড়িয়েছে ১০.৮৭ শতাংশে, যা গত ৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এটি ২০২৪ সালের রেকর্ড স্তরের প্রায় অর্ধেক, যখন ভারত সাময়িকভাবে এই সূচকেরই একটি শাখা ‘এমএসসিআই ইএম ইনভেস্টেবল মার্কেট ইনডেক্স’-এর বৃহত্তম অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল; যদিও পরবর্তীতে চিন আবারও সেই শীর্ষ স্থানটি দখল করে নেয়। বিশ্ব বাজারে বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দিকে ব্যাপকভাবে ঘুরে যাওয়ার কারণেই মূলত এই পট পরিবর্তন ঘটেছে।

কেন বেঞ্চমার্কের ওয়েটেজ শুধু একটি সংখ্যা নয়?

অ্যাক্টিভলি বা সক্রিয়ভাবে পরিচালিত ফান্ডগুলোর ওপর এর প্রভাব হয়তো এতটা যান্ত্রিক নয়, তবে তা সমপরিমাণ তাৎপর্যপূর্ণ। একজন অ্যাক্টিভ ফান্ড ম্যানেজার যদি সূচকে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে ভারতে কম বিনিয়োগ ধরে রাখতে চান, তবে তিনি একটি সুচিন্তিত এবং জবাবদিহিমূলক ঝুঁকি নিচ্ছেন এবং এর যৌক্তিকতা তাঁকে তার ক্লায়েন্ট বা গ্রাহকদের কাছে প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু সূচকে ভারতের ওয়েটেজ যত কমবে, সেই ঝুঁকির খরচ বা দায়বদ্ধতাও ততটাই হ্রাস পাবে। ফলে, বেঞ্চমার্ক থেকে খুব বড় কোনও বিচ্যুতি না ঘটিয়েই ভারতের বাজারে বিনিয়োগের পরিমাণ বা ওয়েটেজ কমিয়ে আনা ফান্ড ম্যানেজারদের জন্য অনেক সহজ হয়ে ওঠে।

চাপের মুখে দেশের বাহ্যিক অর্থনীতি, এবার জোড়া ধাক্কা

বিশ্ব সূচকে ভারতের এই রাঙ্কিং পতন এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন দেশের অভ্যন্তরীণ পুঁজি বাজার ইতিমধ্যেই অন্য একটি সংকটের মুখোমুখি। ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ মিউচুয়াল ফান্ডস ইন ইন্ডিয়া’-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া তীব্র অস্থিরতার কারণে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা অত্যন্ত সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এর ফলে গত মে মাসে ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে পুঁজি প্রবাহ আগের মাসের তুলনায় এক ধাক্কায় ৪০ শতাংশ কমে ২২,৯০৮ কোটি টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। স্মল-ক্যাপ, মিড-ক্যাপ এবং লার্জ-ক্যাপ ফান্ডগুলোতে বিনিয়োগের পরিমাণ কমেছে যথাক্রমে ২৮ শতাংশ, ৩৩ শতাংশ এবং ৩৭ শতাংশ।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এএমএফআই-এর প্রধান নির্বাহী ভেঙ্কট চালাসানি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করার কারণেই মূলত বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে হাত গুটিয়ে নিচ্ছেন। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাজার এতটাই অস্থির হয়ে উঠেছে যে, দেশীয় বিনিয়োগকারীরা সব ধরনের ইক্যুইটি বা শেয়ার থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তবে এই একই ধাক্কা ভারতের অর্থনীতিতে দ্বিতীয় আরেকটি বড় সংকট ডেকে আনছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত এই পরিস্থিতিতে চরম সংকটের মুখে: অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম দেশের আমদানি বিল বিপুল পরিমাণে বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট বা চলতি হিসাবের ঘাটতি আরও চওড়া হচ্ছে এবং এটি সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে। বিদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর এই চাপ স্পষ্ট হয়েছে সরকারের সাম্প্রতিক কিছু নীতিগত পদক্ষেপ থেকেও। গত মে মাসেই সরকার সোনা ও রূপার ওপর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে এক লাফে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও দেশবাসীর কাছে এক অভূতপূর্ব প্রকাশ্যে আবেদন জানিয়ে আগামী এক বছর সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছেন। এই সমস্ত পদক্ষেপের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল ফোরেক্স বা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর তৈরি হওয়া চাপ কমানো। সরকারের এই বার্তার পর গোল্ড এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড থেকে রেকর্ড ৭২৫ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পাল্টা পদক্ষেপ

অর্থনীতির ওপর এই জোড়া চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকায়, গত ৫ জুন সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ সংস্কারের একটি বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল একটি অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশ, যার মাধ্যমে সরকারি সিকিউরিটিজ থেকে পাওয়া সুদ এবং ক্যাপিটাল গেইনস বা মূলধনী লাভের ওপর বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের আয়কর থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বন্ডের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে, যার মধ্যে নতুন দীর্ঘমেয়াদি বন্ড এবং পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন বন্ড’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি, একটি রেয়াতি বৈদেশিক মুদ্রা আমানত উইন্ডো চালু করা হয়েছে, যার অধীনে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া প্রবাসী বা বিদেশি আমানত সংগ্রহকারী ব্যাঙ্কগুলোর সম্পূর্ণ হেজিং খরচ (মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার ঝুঁকিজনিত খরচ) নিজেই বহন করবে। এই বিষয়ের সঙ্গে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে প্রায় ২,০০০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe