India-Bangladesh Border: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মুরইছড়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে পাঠানো ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় কুলাউড়া থানায় বিজিবি ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে শুক্রবার উপজেলার মুরইছড়া সীমান্ত থেকে বিজিবি তাদেরকে আটক করে।

পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী সূত্রে খবর, ত্রিপুরা রাজ্যের ওপারে বাংলাদেশের মুরইছড়া সীমান্ত। মুরইছড়া বর্ডার সংলগ্ন চা বাগান এলাকায় শুক্রবার সকালের দিকে মহিলা, পুরুষ ও শিশু-সহ ১০ জনকে সন্দেহজনক অবস্থায় ঘোরাঘুরি করতে দেখে বিজিবি ৪৬ ব্যাটালিয়নের মুরইছড়া ক্যাম্পের টহলরত সদসরা। এরপরেই তাঁদের আটক করে কুলাউড়া থানায় নিয়ে আসেন বিজিবি সদস্যরা। সেখানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটকরা জানান, তারা বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাঁদের আটক করে এবং পরে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিজিবি তাঁদের কুলাউড়া থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্যদিকে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, 'এটি পুশ-ইন কিনা তা নিশ্চিত নয়। এই ১০ জনকে সীমান্ত এলাকা থেকে স্থানীয়রা আমাদের কাছে নিয়ে এসেছিলেন। পুলিশ এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবে।' আটকরা হলেন- নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা রাহুল তালুকদার (২৭), খালিয়াজুড়ী উপজেলার যোগীমারা গ্রামের যুবরাজ সরকার (৪২), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাঙাধর গ্রামের হাবুল দাস (৪৮), হাবুলের স্ত্রী সুমিত্রা দাস (৪৪), মেয়ে অনামিকা দাস (১৭) ও ভূমি দাস (৭), ছেলে হেমন্ত দাস (১৬), হামতপুর গ্রামের গোপাল দাস (২৭), সদর উপজেলার বক্তারগাঁও গ্রামের মো. আল আমিন (৩৫) ও আল আমিনের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (১৯)। এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ মাতব্বর বলেন, ‘বিজিবি আমাদের কাছে ১০ জনকে হস্তান্তর করে। তাঁরা চিকিৎসা-সহ বিভিন্ন কাজে ভারতে গিয়েছিল। পরে আমরা তাদের কাগজপত্র যাচাই করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছি।’