...
...
Next Story

তেল নিয়ে চিন্তা নেই! মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত, কী বললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী?

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর কথায়, 'দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ অশোধিত তেল মজুত রয়েছে, তাতে সরকার নিশ্চিন্ত। গ্রাহকদের স্বার্থরক্ষা করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।'

Published on: Mar 4, 2026, 16:21:33 IST
Advertisement

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ইরান জাহাজ চলাচল বন্ধ করার পর থেকেই তেলের সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে, এই অবস্থায় জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারতের চিন্তার কোনও কারণ নেই বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা যুক্তি দিয়েছেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫ দিনের অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। পাশাপাশি, সমপরিমাণ পেট্রোলিয়াম পণ্যের মজুতও রয়েছে, যার মধ্যে দেশের বন্দরের উদ্দেশে আসা জাহাজে থাকা সরবরাহও অন্তর্ভুক্ত।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত

খোদ কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ পুরী বলছেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারত পুরোপুরি প্রস্তুত। পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের গ্রাহকরা তাৎক্ষণিকভাবে কোনও ঘাটতির সম্মুখীন হবেন না। ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানি করে। এরমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে আসে, যার বড় অংশ হরমুজ প্রণালী হয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান সংঘাতের জেরে ওই পথের প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতার জেরে কাতারের প্রধান গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে হামলা হয়েছে। এরপর সাময়িকভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটি। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস কমপ্লেক্স রাস লাফানে মোট ১৪টি এলএনজি ‘ট্রেন’ পরিচালিত হয়, যার সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৭ কোটি ৭০ লক্ষ টন। এই বিপুল সক্ষমতার কারণেই কাতার বিশ্বব্যাপী এলএনজি বাজারের শীর্ষ সরবরাহকারী দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত।

এছাড়া অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের চাহিদা মেটানোর জন্য ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের বাড়তি বাফার স্টক রাখা হয়েছে। ভারত বছরে প্রায় ২৭ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি করে, যার মধ্যে কাতার প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ করে। বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সার উৎপাদন থেকে শুরু করে সিএনজি এবং পাইপের রান্নার গ্যাস বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাহিদা মেটাতে আমদানি করে। বাজার বিশ্লেষণী সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুসারে, ভারতের কাছে এই মুহূর্তে সঞ্চয়ে আছে ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ব্যারেল বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেল। ট্যাঙ্ক, রিজার্ভ এবং সমুদ্রপথে জাহাজে আসা তেল রয়েছে এরমধ্যে। যা এদেশে ৪০-৪৫ দিন তেলের চাহিদার প্রয়োজন মেটাতে পারে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাত্রা যদি ব্যাহত হয় তাহলে এই সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে। দেশে কৌশলগত তেল ভাণ্ডারের মধ্যে পাডুরে ২.২৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন (এমএমটি), বিশাখাপত্তনমে ১.৩৩ এমএমটি এবং মঙ্গলুরুতে ১.৫ এমএমটি সংরক্ষণ ক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া সমুদ্র উপকূলবর্তী চণ্ডিখোলে আরও একটি কৌশলগত ভাণ্ডার নির্মাণাধীন। জরুরি পরিস্থিতিতে এই মজুত ব্যবহার করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও এই ভাণ্ডার থেকে সরবরাহ দিয়ে চাপ কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe