...
...
Next Story

আর্মেনিয়াকে ১০০০ গাইডেড পিনাকা রকেট পাঠাল ভারত! নাগপুরের কারখানায় তৈরি অস্ত্রে বাড়বে শত্রুশিবিরে নির্ভুল হামলার ক্ষমতা

২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ২০০০ কোটি টাকার একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তিতে পিনাকা মাল্টিপল ব্যারেল রকেট লঞ্চার, বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এবং গোলাবারুদ কেনার বিষয় ছিল। চারটি পিনাকা ব্যাটারি সরবরাহের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল।

Published on: Nov 5, 2026, 14:36:53 IST
Advertisement

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানিতে আরও এক বড় সাফল্য ভারতের। আর্মেনিয়াকে ১০০০টি অত্যাধুনিক গাইডেড পিনাকা রকেট সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতীয় সংস্থা সোলার ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস লিমিটেডের (SDAL) নাগপুরের কারখানায় তৈরি হয়েছে এই রকেটগুলি। এর আগে ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের উপস্থিতিতে আর্মেনিয়ার উদ্দেশে প্রথম দফার গাইডেড পিনাকা রকেট পাঠানোর প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছিল। এবার সেই সরবরাহের পরিমাণ ১০০০ বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। এই রফতানি ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

২০০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা চুক্তি

আর্মেনিয়াকে ১০০০ গাইডেড পিনাকা রকেট পাঠাল ভারত! নাগপুরের কারখানায় তৈরি অস্ত্রে বাড়বে শত্রুশিবিরে নির্ভুল হামলার ক্ষমতা (PTI)
আর্মেনিয়াকে ১০০০ গাইডেড পিনাকা রকেট পাঠাল ভারত! নাগপুরের কারখানায় তৈরি অস্ত্রে বাড়বে শত্রুশিবিরে নির্ভুল হামলার ক্ষমতা (PTI)

আর্মেনিয়ার সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন নয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ২০০০ কোটি টাকার একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তিতে পিনাকা মাল্টিপল ব্যারেল রকেট লঞ্চার, বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এবং গোলাবারুদ কেনার বিষয় ছিল। চারটি পিনাকা ব্যাটারি সরবরাহের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল। আর্মেনিয়া ছিল ভারতের এই দেশীয় রকেট ব্যবস্থা কেনা প্রথম বিদেশি দেশ। প্রাথমিক পর্যায়ে পিনাকার সাধারণ এবং উন্নত সংস্করণের রকেট ও লঞ্চার সরবরাহ করা হয়। এবার গাইডেড রকেটের সরবরাহ সেই প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

কতটা শক্তিশালী গাইডেড পিনাকা?

পিনাকা তৈরি করেছে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও। এটি একটি মাল্টিপল ব্যারেল রকেট লঞ্চার ব্যবস্থা। একসঙ্গে একাধিক রকেট ছুড়ে শত্রুর অবস্থানে আঘাত হানতে পারে এই অস্ত্র।

তবে সাধারণ পিনাকা রকেটের তুলনায় গাইডেড সংস্করণের বিশেষত্ব হল এর নির্ভুলতা। এতে রয়েছে উন্নত নেভিগেশন, গাইডেন্স এবং কন্ট্রোল প্রযুক্তি। ফলে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করে সেখানে আঘাত হানতে পারে। এই সংস্করণের পাল্লা ৭০ কিলোমিটারের বেশি। বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্রতিবেদনে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার পাল্লার কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ, শত্রুর অবস্থানে অনেকটা দূর থেকেই নির্দিষ্ট নিশানায় হামলা চালানো সম্ভব।

নাগপুরের বেসরকারি সংস্থার বড় ভূমিকা

১৮ জানুয়ারি নাগপুরে সংস্থাটির কারখানা পরিদর্শন করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। সেখান থেকেই আর্মেনিয়ার জন্য প্রথম দফার গাইডেড পিনাকা রকেট পাঠানোর সূচনা করেন তিনি। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে ভারতকে আন্তর্জাতিক স্তরের বড় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যও জানিয়েছেন রাজনাথ।

ককেশাস অঞ্চলে বাড়বে ভারতের গুরুত্ব

আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাত চলছে। নাগর্নো-কারাবাখকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক বহুবার উত্তপ্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আর্মেনিয়ার সামরিক শক্তি বাড়াতে ভারতের তৈরি পিনাকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে দূরপাল্লার নির্ভুল হামলার ক্ষমতা আর্মেনিয়ার স্থলবাহিনীকে বাড়তি সুবিধা দেবে।

ভারতের জন্যও এই চুক্তি কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে শুধু অস্ত্র বিক্রি নয়, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা সম্পর্ক তৈরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে ১০০০ রকেটের নির্দিষ্ট সংখ্যা এবং সম্পূর্ণ সরবরাহের সময়সীমা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি। সংখ্যাটি মূলত আইডিআরডব্লিউয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, পিনাকা রকেটের এই রফতানি ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাজারে প্রভাব বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এবার দেশীয় প্রযুক্তির এই অস্ত্রের উপর নির্ভর করেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারবে আর্মেনিয়া।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks