আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলছে ইরানের। এরই মাঝে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাগচির সঙ্গে ফোনে কথা হল বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই নিয়ে তৃতীয়বার দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর ফোনে কথা হয়েছে। ফোনালাপের পরে এস জয়শঙ্কর জানান, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত ভাবে কথা হয়েছে তাঁদের দু'জনের। এদিকে সর্বশেষ এই ফোনালাপ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গতকালই দেশের জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে ছিলেন জ্বালানি মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং জয়শঙ্কর। এরপরই জয়শঙ্করের ফোনে কথা হয় আরাগচির সঙ্গে।

এদিকে গত ৯ মার্চ সংসদে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে বক্তব্য রাখেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সংসদে জয়শঙ্কর জানান, ইরানে ভারতীয় দূতাবাস খোলা রয়েছে এবং সেটি সচল রয়েছে। এরই সঙ্গে বিদেশমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা স্বভাবতই কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ৫ মার্চ এবং ১০ মার্চ ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে জয়শঙ্করের কথা হয়েছে। গত ১০ মার্চের কথোপকথন আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ, মোজতাবা খামেনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর এই প্রথম ভারত সরকারের সঙ্গে ইরান সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে।
ইরানের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন হামলা নিয়ে জয়শঙ্করকে অবগত করেছেন আরাগচি। ইরানে রস্কুলের ওপর যেভাবে বোমা ফেলা হয়েছে, সেই বিষয়টিও ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়েও কথা হয়েছে দুই বিদেশমন্ত্রীর। ইরানের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পারস্য উপসাগরে নিরাপদ নৌ চলাচলের পক্ষে তারা। তবে মার্কিন আগ্রাসনের আবহে তা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে শ'য়ে শ'য়ে ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ। ইরান বলছে, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যোগ না থাকা কোনও জাহাজ তারা আটকাবে না। এই আবহে সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়, হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে সরিয়ে আনার বিকল্প বিবেচনা করছে মোদী সরকার। ডিরেক্টোরেট জেনারেল অফ শিপিংয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (ক্রু) পিসি মীনা বলেছেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী এবং সংলগ্ন জলসীমার আশেপাশে ৩৬টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। তাদের নিরাপদে এই অঞ্চল থেকে বেরিয়ে যেতে সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে শ'য়ে শ'য়ে ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ। ইরান বলছে, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যোগ না থাকা কোনও জাহাজ তারা আটকাবে না। এই আবহে সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়, হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে সরিয়ে আনার বিকল্প বিবেচনা করছে মোদী সরকার। ডিরেক্টোরেট জেনারেল অফ শিপিংয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (ক্রু) পিসি মীনা বলেছেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী এবং সংলগ্ন জলসীমার আশেপাশে ৩৬টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। তাদের নিরাপদে এই অঞ্চল থেকে বেরিয়ে যেতে সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১ মার্চ ওমানের খসব বন্দরে এমটি স্কাইলাইট নামক তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং অয়লার পদে থাকা দিলীপ সিং। এদিকে ওমানের মাস্কাটের থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা এমকেডি ব্যোম নামক ট্যাঙ্কারে হামলা করা হলে প্রাণ হারান অয়লার দিক্ষীত অমৃতলাল সোলাঙ্কি।