ইরানে এক স্কলে বোমা বর্ষণের জেরে প্রাণ হারিয়েছে ১৬৮ জন ছাত্রী। এই বিষয়টি নিয়ে এবার দুঃখ প্রকাশ করল ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই নিয়ে মুখ খোলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিক বলেন, 'আমরা মূল্যবান প্রাণহানির জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।' এরই সঙ্গে সব সাধারণ মানুষের সুরক্ষা কামনা করেন তিনি। এদিকে মিনাবের স্কুলে ১৬৮ ছাত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছেও উত্থাপন করেন ইরানি রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান। গতরাতে দুই নেতার মধ্যে ফোনে কথা হয়েছিল। সেই সময় পেজেশকিয়ান জানান, এই হত্যার 'প্রতিশোধ' নিতে তারা বদ্ধপরিকর।
বিদেশ মন্ত্রকের সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, 'স্কুলছাত্রীদের মৃত্যু নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে... আমরা এর আগেও চলমান সংঘাত নিয়ে একাধিক বিবৃতি জারি করেছি। আমরা স্পষ্ট করেছি, সব সাধারণ মানুষের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমরা মূল্যবান প্রাণহানির জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এই নিয়ে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি।'
মিনাবে শাজারেহ তাইয়েবেহ স্কুলে হামলার বিষয়টি 'ক্ষমার অযোগ্য যুদ্ধ অপরাধ' বলে আখ্যা দিয়েছে ইরান। এই নিয়ে সেই দেশএর বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসলাইল বারেই জানান, সেই ঘটনাস্থল থেকে আমেরিকার টমাহক মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছে। তাতে স্পষ্ট লেখা আছে - 'আমেরিকায় তৈরি'। ইরান এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে এবং দোষীদের কড়া শাস্তি দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছে।
এদিকে এই হামলার বিষয়ে প্রাথমিক ভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান নিজেরাই মনে হয় স্কুলে হামলা চালিয়েছিল। তবে পরে মার্কিন সেনার অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয় এই ঘটনা নিয়ে। সেখানে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আমেরিকাই এই হামলাটি করেছিল। দাবি করা হচ্ছে, পুরনো ইন্টেলিজেন্স তথ্যের জেরে ভুল লক্ষ্যে আঘাত হেনেছিল মার্কিন মিসাইল। সেই স্কুলের পাশেই আইআরজিসির একটি ঘাঁটি ছিল। সেটিকে ধ্বংস করতে গিয়ে স্কুলে মিসাইল হামলা চালিয়ে ফেলে আমেরিকা। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ট্রাম্পকে আবার এই হামলা এবং অভ্যন্তরীণ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'আমি কিছু জানি না'। আবার পেন্টাগন থেকে মার্কিন যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথ বলেন, 'ইচ্ছে করে কোনও সাধারণ মানুষের ওপর আমেরিকা হামলা চালায় না'। তবে এই বার্তা দিয়েই যে আমেরিকা দায় এড়াতে পারবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে ইরান।