যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে ভারত আশা প্রকাশ করেছে, এই চুক্তি পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করবে। এক বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, তারা ধারাবাহিকভাবে উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে সওয়াল করে আসছে। এরই সঙ্গে হরমুজের মধ্য দিয়ে অবাধ চলাচলের আহ্বান জানিয়েছে দিল্লি। সামুদ্রিক রুটের কৌশলগত গুরুত্বের কথা তুলে ধরে বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে 'নৌ চলাচলের অবাধ স্বাধীনতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবাহ' আশা করা হচ্ছে। এদিকে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক বার্তায় ভারতীয়দের দ্রুত ইরান ছাড়তে বলেছে। তবে আগের থেকে দূতাবাসের থেকে পরামর্শ না নিয়ে কোনও সীমান্তে যেতে বারণ করা হয়েছে ভারতীয়দের।

উল্লেখ্য, যুদ্ধ চলাকালীন শিবালিক, নন্দা দেবী, জগ বসন্দ, পাইন গ্যাস, গ্রিন সানভি সহ অনেক জাহাজ ভারতে পৌঁছেছে এই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে। তবে এখনও ভারতের ১৬টি কার্গো জাহাজ হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে আটকে আছে। এতদিন ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তি বা শর্তের ভিত্তিতে ভারত হরমুজ দিয়ে জাহাজ আনছিল না বলে জানিয়েছে সরকার। তবে এরপরে কী হবে, তা জানতে চাওয়া হলে সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাকি বার্তাসংস্থা পিটিআইকে বলেন, 'আমরা এই ধরনের কোনও অর্থ প্রদানের বিষয়ে অবগত নই।' এর আগে ইরানের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ভারত হরমুজ দিয়ে জাহাজ নিয়ে আসতে পারছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে নয়া যুদ্ধবিরতির ফলে ভারতের সঙ্গে ইরানের সেই সমীকরণে কোনও পরিবর্তন আসবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী আটকে রাখা সহজ। প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাথমিক ভাবে ১০ মার্চ পর্যন্ত ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর ১১ মার্চ কার্গো জাহাজে হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় ইরান। গভীর রাতে অন্তত ৫-৬টি জাহাজে হামলা চালায় তারা।