মাদ্রাসার সম্প্রসারণের জন্য জমির প্রয়োজন—এই অজুহাতে পাকিস্তানে শতবর্ষ প্রাচীন একটি হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির অভিযোগ, পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ের উপর এই ধরনের হামলা শুধু নিন্দনীয় নয়, বরং ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের ব্যর্থতারও স্পষ্ট প্রমাণ।

জানা গিয়েছে, লাহোর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে নারোয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে মন্দিরটি অবস্থিত ছিল। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, মন্দিরটির পাশেই একটি মাদ্রাসা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত কিছু কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর নজর ছিল ওই মন্দিরের জমির উপর। অভিযোগ, সম্প্রতি মন্দিরটি সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে তার জমি মাদ্রাসার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, মন্দিরটির বয়স ছিল আনুমানিক ১০০ থেকে ১২৫ বছর। প্রায় ১০০০ বর্গমিটার জায়গার উপর অবস্থিত এই প্রাচীন উপাসনালয়টি ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান ছিল। অভিযোগ উঠেছে, নিষিদ্ধ উগ্রপন্থী ইসলামপন্থী সংগঠন তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান বা টিএলপির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই এই ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত।
ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, নারোয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে একটি ঐতিহাসিক হিন্দু মন্দির ধ্বংসের খবর ভারত গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে। শতবর্ষ প্রাচীন একটি সংখ্যালঘু উপাসনালয়ের উপর এমন নিন্দনীয় ভাঙচুরের ঘটনাকে ভারত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিন্দা জানায় বলেও জানান তিনি।
শুধু ভাঙচুর নয়, মন্দিরটি রক্ষায় পাকিস্তানি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নয়াদিল্লি। রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য, শতাব্দীপ্রাচীন মন্দির রক্ষা করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা এবং উদাসীনতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ধরনের ঘটনা পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং তাঁদের ধর্মীয় স্বাধীনতার বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দেয়।
{{/usCountry}}শুধু ভাঙচুর নয়, মন্দিরটি রক্ষায় পাকিস্তানি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নয়াদিল্লি। রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য, শতাব্দীপ্রাচীন মন্দির রক্ষা করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা এবং উদাসীনতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ধরনের ঘটনা পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং তাঁদের ধর্মীয় স্বাধীনতার বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দেয়।
{{/usCountry}}ভারতের বক্তব্য, কোনও দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও উপাসনালয় রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্ব। সেখানে একটি প্রাচীন মন্দির প্রকাশ্যে ভেঙে ফেলা হলে তা শুধুমাত্র একটি স্থাপত্য ধ্বংসের ঘটনা থাকে না, বরং একটি সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অস্তিত্বের উপরও আঘাত হিসেবে দেখা হয়।
পাকিস্তানে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। দেশভাগের সময় পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের ছিল। পরবর্তী দশকগুলিতে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারগুলির অভিযোগ, মন্দিরে হামলা, জোর করে ধর্মান্তরণ, অপহরণ এবং বিশেষ করে অল্পবয়সি হিন্দু মেয়েদের নিয়ে একাধিক গুরুতর ঘটনা সামনে এসেছে।
এই প্রেক্ষাপটে সিরাজ গ্রামের শতবর্ষ প্রাচীন মন্দির ধ্বংসের ঘটনাটি নতুন করে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একটি ঐতিহাসিক উপাসনালয়কে সরিয়ে তার জায়গা অন্য কাজে ব্যবহারের অভিযোগে পাকিস্তান প্রশাসন কতটা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর।