...
...
Next Story

India on PoK Killings by Pak Army: অধিকৃত কাশ্মীরে পাক সেনার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ, UNHRC-কে তদন্তের আহ্বান ভারতের

ভারতের বক্তব্য, প্রতিবেশী দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘের নীরবতা উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মানবাধিকারের প্রশ্নে বেছে বেছে সরব হওয়া হলে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা কমবে।

Published on: Oct 15, 2026, 09:43:43 IST
Advertisement

পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগ। গ্রেফতার করা হয়েছে রাজনৈতিক আন্দোলনের নেতাদেরও। ইন্টারনেট পরিষেবায় বিধিনিষেধ জারি করার অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে আরও সরব হল নয়াদিল্লি। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর (ওএইচসিএইচআর) কী পদক্ষেপ করেছে, তা জানতে চাইল ভারত। একই সঙ্গে পাকিস্তান সরকারকে দেওয়া নির্দেশের ভিত্তিতে ওএইচসিএইচআরের রিপোর্ট কবে প্রকাশিত হবে, সেই প্রশ্নও তুলেছে নয়াদিল্লি। ভারতের বক্তব্য, প্রতিবেশী দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘের নীরবতা উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মানবাধিকারের প্রশ্নে বেছে বেছে সরব হওয়া হলে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা কমবে।

পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগ। (HT_PRINT)
পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগ। (HT_PRINT)

বুধবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার ৮১তম অধিবেশনের তৃতীয় কমিটিতে মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনায় ভারতের বক্তব্য তুলে ধরেন রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত ভারতীয় মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি অনুজ স্বরূপ। তিনি বলেন, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতর আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে মৃত্যুর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, গ্রেফতার হওয়া নেতাদের আইনি সহায়তা এবং ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছিল তারা। কিন্তু পাকিস্তান সরকার এই সুপারিশগুলি নিয়ে কী পদক্ষেপ করেছে, তা জানিয়ে রিপোর্ট কবে প্রকাশ করা হবে?

পাকিস্তানকে আত্মসমীক্ষার বার্তা

পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও সরব হয়েছেন অনুজ স্বরূপ। তাঁর বক্তব্য, অন্য দেশের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করার আগে পাকিস্তানের উচিত নিজের দেশের দিকে নজর দেওয়া। খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে শুরু করে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালকোট, বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের অধিকার কতটা সুরক্ষিত, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। ব্যবসায়ী, পরিবহণ কর্মী, পড়ুয়া, আইনজীবী এবং সমাজকর্মীদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করা হয়। সংগঠনের কয়েক জন নেতাকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতর বলেছিল, ধৃত নেতাদের আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দিতে হবে। তাঁদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং নিরপেক্ষ বিচারের অধিকারও নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি, ওই অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবার উপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছিল।

রাষ্ট্রসংঘের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

অনুজ স্বরূপের অভিযোগ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতরের অবস্থানে পক্ষপাত দেখা যাচ্ছে। তাঁর কথায়, প্রতিবেশী দেশগুলিতে কিংবা পশ্চিমের দেশগুলিতে বিক্ষোভ দমনে হিংসার অভিযোগ উঠলেও অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘ নীরব থেকেছে। এই দ্বিচারিতা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করে।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অহিংসা এবং সাম্যের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় সংবিধান নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছে। তবে জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার শর্ত মেনেই সেই অধিকার প্রয়োগ করতে হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি আইন মেনেই কাজ করে এবং অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্য দেশের আদালত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, দিল্লিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড়ের অভিযোগে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সেই মন্তব্যকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছিল নয়াদিল্লি। এ বার পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল ভারত।

সব মিলিয়ে, মানবাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত-পাকিস্তানের চাপানউতোর আরও তীব্র হল। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মৃত্যুর অভিযোগের তদন্ত এবং গ্রেফতার হওয়া নেতাদের বিচারের বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট কবে প্রকাশিত হয়, এখন সেদিকেই নজর কূটনৈতিক মহলের।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks