যুদ্ধ চলাকালীন কম সংখ্যক ভারতীয় জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিতে দিয়েছিল ইরান। সেই সময় ভারতের থেকে কোনও 'টোল' নেয়নি ইরান। তবে আমেরিকার সাথে ইরানের যুদ্ধবিরতির শর্তে নাকি হরমুজ প্রণালী থোকে টোল সংগ্রহের কথা বলা আছে। এই আবহে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত হলেও তা পাড়ি দিতে টাকা দিতে হবে ইরানকে। শুধু ইরান নয়, ওমানও নাকি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ থেকে টোল সংগ্রহ করবে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই পরিস্থিতিতে বলেছেন, ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে সব জাহাজকে এই দুই সপ্তাহের জন্য নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে করতে দেওয়া হবে। এই আবহে প্রশ্ন উঠেছে, ভারতকেও কি ইরানকে টোল দিতে হবে হরমুজ দিয়ে জাহাজ আনতে গেলে?
হরমুজ দিয়ে অতিক্রম করতে ইরান এবং ওমানকে কত করে টোল দিতে হবে, সেই নিয়ে কোনও পক্ষই এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা করেনি। এদিকে আমেরিকাও এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেনি। তবে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে সংগ্রহ করা টাকা ব্যবহার করে তারা দেশ পুনর্গঠন করবে। যুদ্ধ পরবর্তী ক্ষতিপূরণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে এই টোলের অর্থ। আদতে হরমুজ প্রণালীর মাঝের অংশটিকে আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে এতদিন পর্যন্ত কোনও দেশই হরমুজ দিয়ে যাওয়া জাহাজের জন্য কাউকে টোল দিত না।
এদিকে যুদ্ধ চলাকালীন শিবালিক, নন্দা দেবী, জগ বসন্দ, পাইন গ্যাস, গ্রিন সানভি সহ অনেক জাহাজ ভারতে পৌঁছেছে এই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে। তবে এখনও ভারতের ১৬টি কার্গো জাহাজ হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে আটকে আছে। এতদিন ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তি বা শর্তের ভিত্তিতে ভারত হরমুজ দিয়ে জাহাজ আনছিল না বলে জানিয়েছে সরকার। তবে এরপরে কী হবে, তা জানতে চাওয়া হলে সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাকি বার্তাসংস্থা পিটিআইকে বলেন, 'আমরা এই ধরনের কোনও অর্থ প্রদানের বিষয়ে অবগত নই।' এর আগে ইরানের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ভারত হরমুজ দিয়ে জাহাজ নিয়ে আসতে পারছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে নয়া যুদ্ধবিরতির ফলে ভারতের সঙ্গে ইরানের সেই সমীকরণে কোনও পরিবর্তন আসবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী আটকে রাখা সহজ। প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাথমিক ভাবে ১০ মার্চ পর্যন্ত ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর ১১ মার্চ কার্গো জাহাজে হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় ইরান। গভীর রাতে অন্তত ৫-৬টি জাহাজে হামলা চালায় তারা।
{{/usCountry}}হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী আটকে রাখা সহজ। প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাথমিক ভাবে ১০ মার্চ পর্যন্ত ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর ১১ মার্চ কার্গো জাহাজে হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় ইরান। গভীর রাতে অন্তত ৫-৬টি জাহাজে হামলা চালায় তারা।
{{/usCountry}}১ মার্চ ওমানের খসব বন্দরে এমটি স্কাইলাইট নামক তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং অয়লার পদে থাকা দিলীপ সিং। এদিকে ওমানের মাস্কাটের থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা এমকেডি ব্যোম নামক ট্যাঙ্কারে হামলা করা হলে প্রাণ হারান অয়লার দিক্ষীত অমৃতলাল সোলাঙ্কি। ইরাকের জলসীমায় সেফ-সি বিষ্ণু নামক মার্কিন জাহাজে প্রাণ হারান দেবানন্দন প্রসাদ সিং। ইরান যুদ্ধের আবহে সমুদ্রে যতজন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁরা সকলেই ভারতীয় বলে জানা গিয়েছে। এই নিয়ে সম্প্রতি ভারত ক্ষোভ প্রকাশও করেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত হওয়ায় ভারতও স্বস্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।