রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল পাশ হওয়ার পর আমেরিকা ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কে ফের চাপ তৈরি হয়েছে। বুধবার মার্কিন কংগ্রেসে এমন একটি বিল পাশ হয়েছে, যার আওতায় রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কিনছে এমন দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা পেতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিলটি এখন ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। ভারতও এই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।

এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, দেশের মানুষের শক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত বিভিন্ন দেশ ও উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি চালিয়ে যাবে। বাজারের পরিস্থিতি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহের উৎসও ঠিক করা হবে।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘Sanctioning Russia and Iran Act’ নিয়ে ভারত পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। গত কয়েক মাসে বিষয়টি নিয়ে আমেরিকার বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভারতের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনায় ভারত পরিষ্কার ভাবে জানিয়েছে, রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনার উপর কোনও নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হলে তার প্রভাব শুধু ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে নয়াদিল্লির বক্তব্য।
ভারতের বক্তব্য, দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিলটির সম্ভাব্য প্রভাব সামলাতে সরকার দেশের বাণিজ্য ও শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে কাজ করবে। অর্থাৎ আমেরিকার নতুন নিষেধাজ্ঞা বা শুল্কনীতির কারণে ভারতীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে যে প্রভাব পড়তে পারে, তা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র।
মার্কিন কংগ্রেসে পাশ হওয়া নতুন আইনটি রাশিয়ার জ্বালানি খাতের উপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলিকেও লক্ষ্য করতে পারে। মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ১৬ সেপ্টেম্বর ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি পাশ করেছে। এর আগে মার্কিন সেনেটেও বিলটি অনুমোদিত হয়েছিল। ফলে এখন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রয়েছে।
{{/usCountry}}মার্কিন কংগ্রেসে পাশ হওয়া নতুন আইনটি রাশিয়ার জ্বালানি খাতের উপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলিকেও লক্ষ্য করতে পারে। মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ১৬ সেপ্টেম্বর ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি পাশ করেছে। এর আগে মার্কিন সেনেটেও বিলটি অনুমোদিত হয়েছিল। ফলে এখন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রয়েছে।
{{/usCountry}}নতুন বিলে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা রাখা হয়েছে। ভারত ও চিন—দুই দেশই রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা হওয়ায় এই বিল নিয়ে নয়াদিল্লির উপর চাপ বাড়তে পারে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
তবে ভারত এখনই রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি বন্ধ করার কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি। বরং বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্যে স্পষ্ট, দেশের জ্বালানি চাহিদা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থকে সামনে রেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অতীতে ভারতও জানিয়েছে, তার জ্বালানি আমদানি নীতি মূলত দেশের প্রয়োজন, বাজারের পরিস্থিতি এবং সরবরাহের নিরাপত্তার উপর নির্ভর করে।
এই পরিস্থিতিতে সামনে মূল প্রশ্ন হল, ট্রাম্প প্রশাসন নতুন আইনের ক্ষমতা ব্যবহার করে ভারতের উপর আদৌ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে কি না। সেই সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তাই আপাতত ভারত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং একই সঙ্গে নিজের শক্তি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষার প্রস্তুতি রাখছে।
সব মিলিয়ে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনার মধ্যেও ভারত নিজের জ্বালানি প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রেখে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার উপরও জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি।