...
...
Next Story

India Fertility Rate: ইতিহাসে প্রথমবার! মহিলাদের প্রজনন হার কমছে, কী অপেক্ষা করছে ভারতের জন্য? উদ্বিগ মাস্ক

India Fertility Rate: এখন বেশিরভাগ পরিবারেই এক সন্তান। তার উপর অনেক মহিলা-পুরুষই অবিবাহিত থাকছেন বা বিবাহিত হলেও সন্তান নিচ্ছেন না। এর ফলে আগের প্রজন্মের মোট জনসংখ্যার তুলনায় অনেক কম মানুষ জন্মাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে জন্মের হার কম থাকলে, জনসংখ্যার বৃদ্ধিও ক্রমশ কমে আসে। এতটা সময় পর নেমে যায় ‘নেগেটিভে’।

Published on: Jun 07, 2026 09:31 PM IST
Advertisement

India Fertility Rate: ভারতে 'সামগ্রিক প্রজনন হার' (টিএফআর) ‘রিপ্লেসমেন্টে’র নীচে নেমে গিয়েছে। ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম এত নীচে নেমে গিয়েছে জন্মের হার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন রেজিস্ট্রার জেনারেল (আরজিআই)-এর স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (এসআরএস) স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিপোর্ট ২০২৪-এর তথ্য চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

মহিলাদের প্রজনন হার কমছে, কী অপেক্ষা করছে ভারতের জন্য? (সৌজন্যে টুইটার)
মহিলাদের প্রজনন হার কমছে, কী অপেক্ষা করছে ভারতের জন্য? (সৌজন্যে টুইটার)

জনসংখ্যাবিদদের মতে, কোনও দেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে গড়ে প্রতি মহিলার ২.১ জন সন্তান জন্ম দেওয়া প্রয়োজন। এই হারকেই রিপ্লেসমেন্ট লেভেল বলা হয়। অর্থাৎ, একটি প্রজন্ম পরবর্তী প্রজন্ম দ্বারা প্রতিস্থাপিত হতে পারে এবং জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় থাকে।কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই হার ২.১-এর নীচে থাকলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমতে শুরু করে। ভবিষ্যতে তা নেগেটিভেও পরিণত হতে পারে।

ভারতের জনসংখ্যা কী কমছে?

১৯৫০ সালে ভারতের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ৩৬ কোটি, যখন এ দেশের একজন নারী গড়ে ছয়টি সন্তানের জন্ম দিতেন। তবে বর্তমানে দেশটির জনসংখ্যা ১.৪৫ বিলিয়ন। ২০২৩ সালে চিনকে টপকে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হয়ে ওঠে ভারত এবং তারপর থেকে দেশের জনসংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ২০২৪ সালের স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে মোট প্রজনন হার কমে দাঁড়িয়েছে ১.৯। অর্থাৎ গড়ে একজন মহিলা তাঁর জীবদ্দশায় ১.৯ জন সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন। এর আগে এই হার ছিল ২.১।

এই রিপ্লেসমেন্ট লেভেল কী?

ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম 'সামগ্রিক প্রজনন হার' (টিএফআর) এতটা কমল। মাত্র ১০ বছরে এই হার ২.৩ থেকে কমে ১.৯ হয়েছে। এমনকী রাজধানী দিল্লির টিএফআর এখন মাত্র ১.২, যা ফিনল্যান্ডের মতো দেশের চেয়েও কম। গত ৪ জুন ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরেই এই তথ্য সামনে এসেছে। দক্ষিণ ও পশ্চিমের বেশ কয়েকটি রাজ্যেও প্রজনন হার অনেক কম। তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে এই হার প্রায় ১.৩। অন্ধ্রপ্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, মহারাষ্ট্র এবং পাঞ্জাবে এই হার ১.৪। অন্যদিকে, হিমাচল প্রদেশ, কর্ণাটক এবং তেলাঙ্গানায় এই হার ১.৫।

কী বললেন ইলন মাস্ক?

ভারতে প্রজনন হারগত কয়েক বছরে দ্রুত হারে কমেছে। তাই নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি ইলন মাস্কও। তিনি বলেন, ভারতের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বহু বছর আগেই সন্তান জন্মের হার 'রিপ্লেসমেন্ট লেভেলের' নিচে নেমে গিয়েছিল। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে সেই প্রবণতাই একেবারে স্পষ্ট। ‘এএফ পোস্ট’ নামে একটি সংবাদমাধ্যমের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মাস্ক এই মন্তব্য করেন। ধনকুবের মাস্ক লিখেছেন, ‘ভারতে জন্মহার অনেকটাই কমেছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে এই হার বহু বছর আগেই বেশ নিচে নেমে গিয়েছিল।’

এক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল জন্মের হার এবং প্রজননের হারকে একই অর্থে ব্যবহার করেন অনেকে। কিন্তু জন্মহার যেখানে এক বছরে প্রতি ১০০০ জন মহিলার সন্তান প্রসবের হার তুলে ধরে, প্রজনন হারের মাধ্যমে বোঝানো হয়, নিজের জীবনকালে একজন মহিলা গড়ে কত সংখ্যক সন্তান জন্ম দিতে পারেন। দুইয়ের মধ্যে গভীর সংযোগ। প্রজননের হার কমার অর্থ জন্মের হারও কমে যাওয়া। এই দু’টিই জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে শ্লথ করে দেয়। দেশে বয়স্কদের সংখ্যা বাড়ে। ভারতের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা জন্মহার কমিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাও দ্রুত বদলে যায়, যার জন্য দেশকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe