...
...
Next Story

India Slams OIC in United Nations: রাষ্ট্রসংঘে ওআইসি-কে তোপ ভারতের, ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আক্রান্তকে এক করবেন না’

জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামোয় ভারতের পদক্ষেপ নিয়ে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি-র মন্তব্যের কড়া জবাব দিল নয়াদিল্লি। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ষষ্ঠ কমিটিতে ভারত সরাসরি অভিযোগ করল, ওআইসি ‘আক্রান্ত’ ও ‘আক্রমণকারী’-র মধ্যে তফাত করতে ব্যর্থ।

Published on: Oct 7, 2026, 11:47:40 IST
Advertisement

রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ফের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের ছায়া। জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামোয় ভারতের পদক্ষেপ নিয়ে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি-র মন্তব্যের কড়া জবাব দিল নয়াদিল্লি। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ষষ্ঠ কমিটিতে ভারত সরাসরি অভিযোগ করল, ওআইসি ‘আক্রান্ত’ ও ‘আক্রমণকারী’-র মধ্যে তফাত করতে ব্যর্থ। ভারতের বক্তব্য, সীমান্তপারের সন্ত্রাস মোকাবিলায় নিজের নাগরিকদের সুরক্ষিত করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে নয়াদিল্লির।

জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামোয় ভারতের পদক্ষেপ নিয়ে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি-র মন্তব্যের কড়া জবাব দিল নয়াদিল্লি। (REUTERS)
জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামোয় ভারতের পদক্ষেপ নিয়ে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি-র মন্তব্যের কড়া জবাব দিল নয়াদিল্লি। (REUTERS)

মঙ্গলবার ষষ্ঠ কমিটির বৈঠকে ভারতের জাতীয় বক্তব্য পেশ করেন পশ্চিম ত্রিপুরার বিজেপি সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। ১৫ জন সাংসদের একটি ভারতীয় প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবেই তিনি রাষ্ট্রসংঘে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের উপায় নিয়ে আলোচনার সময় ওআইসি-র বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে দেব বলেন, পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের মাটি থেকে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই জঙ্গি পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারতের ‘পরিমিত এবং লক্ষ্যভিত্তিক’ পদক্ষেপ।

দেবের কণ্ঠে ছিল তীব্র কটাক্ষ। তাঁর কথায়, ওআইসি-র চেয়ার যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে ‘তথ্য ও কল্পকাহিনি’ আলাদা করা হয়নি। এমনকি কে আক্রান্ত, আর কে সন্ত্রাসের নেপথ্যে—সেই পার্থক্যও করা হয়নি। ভারতের বক্তব্য স্পষ্ট, সীমান্তপারের সন্ত্রাস থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করা নয়াদিল্লির অধিকার। আর সন্ত্রাসে জড়িত থাকার পরিণতি যে বরদাস্ত করা হবে না, সেই সতর্কবার্তাও দিয়েছে ভারত।

পহেলগাঁওয়ের ক্ষত আবার রাষ্ট্রপুঞ্জে

নয়াদিল্লির অবস্থান আরও স্পষ্ট করে দেব বলেন, সন্ত্রাসের ‘ভাল’ বা ‘খারাপ’ বলে কোনও ভাগ নেই। সাধারণ মানুষকে ইচ্ছাকৃত ভাবে নিশানা করার কোনও যুক্তি হতে পারে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সন্ত্রাস মানবাধিকারের সবচেয়ে মৌলিক অধিকার—জীবনের অধিকার—কেই আঘাত করে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপরও এর গভীর প্রভাব পড়ে।

কাশ্মীরের প্রসঙ্গে ওআইসিকে পাল্টা বার্তা

জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ওআইসি-র ‘অনভিপ্রেত’ মন্তব্যও মেনে নেয়নি ভারত। দেব বলেন, ওআইসি-র উচিত ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য না করে পাকিস্তানের দখলে থাকা এলাকার পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া। বিশেষ করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালাকোটে ‘হিংসা, হত্যা এবং মৌলিক অধিকার হরণের’ অভিযোগের দিকে তিনি আঙুল তোলেন। ভারতের দাবি, বিষয়টি নিয়ে ওআইসি-র নীরবতা তাদের অবস্থানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার খবর সামনে এসেছে। ১২টি বিতর্কিত শরণার্থী আসনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ নিয়েও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সেই আবহে ভারতের এই পাল্টা আক্রমণ কূটনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।

ওআইসির বক্তব্য, ভারতের পাল্টা

রাষ্ট্রপুঞ্জের ষষ্ঠ কমিটিতে ওআইসি-র পক্ষ থেকে বক্তব্যটি পড়ে শোনায় সৌদি আরব। সেখানে দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনা এবং পাকিস্তানের একাধিক জায়গায় হওয়া ‘অন্যায্য হামলা’র উল্লেখ করা হয়েছিল। যদিও সরাসরি ভারতের নাম নেওয়া হয়নি, বক্তব্যটির প্রেক্ষিতে নয়াদিল্লি স্পষ্টতই নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে।

ভারতের এই বার্তার মধ্যে তাই দু’টি বিষয় পাশাপাশি উঠে এল—কাশ্মীর প্রশ্নে নিজেদের সার্বভৌম অবস্থানে অনড় থাকা এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের অধিকার বজায় রাখা। রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে ওআইসি-কে সরাসরি নিশানা করে নয়াদিল্লি বুঝিয়ে দিল, কাশ্মীর এবং সন্ত্রাস—এই দুই প্রশ্নে আন্তর্জাতিক চাপ বা সমালোচনার মুখে তারা পিছু হটার পথে নেই।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks