রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। পাকিস্তানের হামলার জেরে সেখানে চলতে থাকা মানবিক সংকট, সহিংসতা এবং বাণিজ্য বিধিনিষেধ নিয়ে সরব হয়েছে ভারত। এর জন্য পাকিস্তানের উদ্দেশে কড়া ভাষায় তোপ দাগেন করেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পর্বতনেনী। আফগানিস্তানের প্রতি নয়াদিল্লির অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন পর্বতনেনী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, উন্নয়নমূলক উদ্যোগ, স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আফগান জনগণকে সহায়তা করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ভারতীয় দূত বলেন আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশে ৫০০টিরও বেশি উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ভারত। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ক্রীড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘ এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে মিলে ক্রমাগত কাজ করে চলেছে ভারত। তিনি পাকিস্তানকে তোপ দেগে বলেন, আফগান শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ ভাবে হওয়া উচিত। তাদের পুনর্বাসনের জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। আফগান অঞ্চলে বিমান হামলা ও সাধারণ মানুষের মৃত্যুর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। এই সব হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রসংঘের সনদ এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের নীতির 'সুস্পষ্ট লঙ্ঘন' বলে বর্ণনা করেছেন ভারতীয় দূত।
পর্বতনেনী পাকিস্তানের উদ্দেশে বলেন, একদিকে ইসলামি সংহতির নীতির পক্ষে সওয়াল করা এবং অন্যদিকে পবিত্র রমজান মাসে নৃশংস বিমান হামলা করা সম্পূর্ণ ভণ্ডামি। পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি জানান যে ২০২৬ সালের ৬ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানি হামলায় ১৮৫ জন নিরীহ আফগান নাগরিক নিহত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫৫ শতাংশ মহিলা এবং শিশু। ভারতীয় প্রতিনিধি আফগানিস্তানে বাণিজ্য রুটে আরোপিত বিধিনিষেধেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভোর হতে না হতেই আফগানিস্তান সীমান্তে বিমান হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছিল পাকিস্তান। গত ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় আত্মঘাতী হামলার জবাবে এই এয়ারস্ট্রাইকের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এদিকে ২২ তারিখের পাক হামলার জবাবে আফগানিস্তানও পালটা হামলা চালায় পাকিস্তানের ওপরে। এরপর গত ১ মার্চ ড্রোন দিয়ে পাক বায়ুসেনা ঘাঁটিতে সেই হামলা চালানো হয়েছিল। নূর খান ছাড়াও বালোচিস্তানের কোয়েট্টায় অবস্থিত পাক সেনার ১২তম ডিভিশনের সদর দফতরে হামলা চালানোর দাবি করেছে তালিবান। এদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ায় মহমন্দ এজেন্সির খাওয়াজি ক্যাম্পেও হামলা চালানোর দাবি করেছে আফগানিস্তান। এছাড়াও পাকিস্তানের আরও একাধিক সামরিক স্থাপনা এবং কমান্ড সেন্টারে আফগানিস্তানের ড্রোন আছড়ে পড়েছে বলে দাবি করে তালিবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এর আগে আফগানিস্তানের জালালাবাদে একটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি করে তালিবান। সেই ঘটনায় এক পাক পাইলটকে আটক করার দাবি জানায় তারা।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভোর হতে না হতেই আফগানিস্তান সীমান্তে বিমান হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছিল পাকিস্তান। গত ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় আত্মঘাতী হামলার জবাবে এই এয়ারস্ট্রাইকের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এদিকে ২২ তারিখের পাক হামলার জবাবে আফগানিস্তানও পালটা হামলা চালায় পাকিস্তানের ওপরে। এরপর গত ১ মার্চ ড্রোন দিয়ে পাক বায়ুসেনা ঘাঁটিতে সেই হামলা চালানো হয়েছিল। নূর খান ছাড়াও বালোচিস্তানের কোয়েট্টায় অবস্থিত পাক সেনার ১২তম ডিভিশনের সদর দফতরে হামলা চালানোর দাবি করেছে তালিবান। এদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ায় মহমন্দ এজেন্সির খাওয়াজি ক্যাম্পেও হামলা চালানোর দাবি করেছে আফগানিস্তান। এছাড়াও পাকিস্তানের আরও একাধিক সামরিক স্থাপনা এবং কমান্ড সেন্টারে আফগানিস্তানের ড্রোন আছড়ে পড়েছে বলে দাবি করে তালিবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এর আগে আফগানিস্তানের জালালাবাদে একটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি করে তালিবান। সেই ঘটনায় এক পাক পাইলটকে আটক করার দাবি জানায় তারা।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি ও আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যে ভয়াবহ সংঘর্ষ বেঁধেছিল, তার কেন্দ্রে ছিল 'তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান' (টিটিপি)। পাকিস্তানের দাবি, টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে আফগান তালিবান। আর সেই সব জঙ্গি তারপর পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। এদিকে তালিবানের পালটা অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার এবং সেনা ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনকে সাহায্য করছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বাইতুল্লাহ মেহসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তানের ফেডারেল শাসিত উপজাতি এলাকার বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে একত্র করে টিটিপি গঠিত হয়। এই গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর জন্ম হয়েছিল। বর্তমানে টিটিপির মূল লক্ষ্য হল পাকিস্তানের সরকারকে সরিয়ে তাদের নিজস্ব মতাদর্শে একটি ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
এই আবহে গত ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর মধ্যরাতের দিকে কাবুলের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর পাক সীমান্তে সেনা আউটপোস্টে পালটা হামলা চালায় আফগনরা। সেই হামলায় পাকিস্তানের ৫৮ সেনা জওয়ান নিহত বলে দাবি করে তালিবান। এদিকে পাক সেনা দাবি করে, তাদের ২৩ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। তারপর গত ১৪ অক্টোবর রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। তাতে কমপক্ষে ১৫ আফগান নাগরিক এবং পাকিস্তানি আধাসামরিক বাহিনীর ৬ জন নিহত হয়েছিল। পরে নভেম্বরের শুরুতেও ফের আফগানিস্তানের স্পিন বলডক অঞ্চলে পাকিস্তানের তরফ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল। পরে আফগান সীমান্তের কাছে টিটিপি ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালানোর দাবি করে পাকিস্তান। যদিও এই সব হামলায় সাধারণ আফগান নাগরিকদের মারছে পাকিস্তানি সেনা।