India-Lanka Joint Naval Exercise: একদিকে ভারতের উত্তর সীমান্ত ঘিরে চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে যৌথ সীমান্ত কমিশন সক্রিয় হয়েছে। অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথ নৌ মহড়া করছে ভারত। দুই ঘটনাই প্রায় একই সময়ে সামনে আসায় সামরিক ও কূটনৈতিক মহলে নজর পড়েছে ভারতের উত্তর ও সমুদ্রসীমার কৌশলগত সমীকরণের দিকে।

বিশাখাখাপত্তনমে ১৭ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলছে ভারত-শ্রীলঙ্কা নৌ মহড়া ‘স্লিনেক্স-২৬’। এটি দুই দেশের নৌবাহিনীর যৌথ মহড়ার ১৩তম সংস্করণ। ভারতীয় নৌবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, এর মূল লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে সমুদ্রপথে সহযোগিতা বাড়ানো এবং যৌথভাবে কাজ করার সক্ষমতা উন্নত করা। মহড়ার প্রথম পর্বে বন্দরভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি হয়েছে। এরপর সমুদ্রভিত্তিক অনুশীলন হওয়ার কথা।
ভারতের তরফে মহড়ায় অংশ নিয়েছে যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস কাভারত্তি’ এবং জ্বালানি সরবরাহকারী জাহাজ ‘আইএনএস জ্যোতি’। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর হয়ে অংশ নিচ্ছে ‘এসএলএনএস সিন্ধুরালা’। দুই দেশের নৌসেনা পরস্পরের সঙ্গে পেশাগত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছে। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এবং সমুদ্রভিত্তিক সমন্বিত কর্মকাণ্ডও এই মহড়ার অংশ।
এই সময়েই ভারতের উত্তর সীমান্তের কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। চিন ও পাকিস্তান নিজেদের যৌথ সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য ‘বাউন্ডারি জয়েন্ট কমিশন’ কার্যকর করেছে। ১৬-১৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে কমিশনের প্রথম বৈঠক হয়। দুই দেশ জানিয়েছে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ সমীক্ষা, পণ্য ও মানুষের চলাচল এবং সীমান্তবর্তী যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমন্বয় বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য।
এই পদক্ষেপকে অবশ্য ভারত স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। নয়াদিল্লি কমিশনের আইনি বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। ভারতের বক্তব্য, এই ব্যবস্থার সঙ্গে যে অঞ্চলগুলির প্রশ্ন জড়িত, সেগুলি জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের অংশ বলে ভারত মনে করে। তাই ওই এলাকায় চিন-পাকিস্তানের কোনও নতুন ব্যবস্থা ভারত স্বীকৃতি দেয় না। এই দুই ঘটনার সময়কাল পাশাপাশি রাখলেই একটি প্রশ্ন উঠছে- ভারত কি একই সঙ্গে স্থলসীমান্ত ও সমুদ্রসীমার কৌশলগত অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছে?
{{/usCountry}}এই পদক্ষেপকে অবশ্য ভারত স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। নয়াদিল্লি কমিশনের আইনি বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। ভারতের বক্তব্য, এই ব্যবস্থার সঙ্গে যে অঞ্চলগুলির প্রশ্ন জড়িত, সেগুলি জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের অংশ বলে ভারত মনে করে। তাই ওই এলাকায় চিন-পাকিস্তানের কোনও নতুন ব্যবস্থা ভারত স্বীকৃতি দেয় না। এই দুই ঘটনার সময়কাল পাশাপাশি রাখলেই একটি প্রশ্ন উঠছে- ভারত কি একই সঙ্গে স্থলসীমান্ত ও সমুদ্রসীমার কৌশলগত অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছে?
{{/usCountry}}উত্তরে চিন-পাকিস্তান সমন্বয় বাড়ছে। একই সময়ে ভারত বঙ্গোপসাগরে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে নৌ-সহযোগিতা আরও দৃশ্যমান করছে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শ্রীলঙ্কার ভৌগোলিক অবস্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই ধরনের মহড়া আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা তুলে ধরে। আর একই সপ্তাহে উত্তর সীমান্তে চিন-পাকিস্তানের যৌথ কমিশন এবং বঙ্গোপসাগরে ভারত-শ্রীলঙ্কা নৌ মহড়া—দুটি আলাদা ঘটনা হলেও, তাদের সময়কাল দক্ষিণ এশিয়ার বদলে যাওয়া কৌশলগত পরিবেশকে নতুন করে সামনে এনেছে।