...
...
Next Story

India to US Senator: ‘আমাদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য’, CJP আন্দোলনকে সমর্থন জানানো US সেনেটরকে কড়া বার্তা ভারতের

প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রমিলা জয়পাল। বৃহস্পতিবার আমেরিকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কোয়াত্রা তাঁর মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ’ বলে কটাক্ষ করেন।

Published on: Oct 16, 2026, 08:28:40 IST
Advertisement

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আমেরিকার কংগ্রেস সদস্য প্রামিলা জয়পালের মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল নয়াদিল্লি। প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই ডেমোক্র্যাট নেত্রী। বৃহস্পতিবার আমেরিকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কোয়াত্রা তাঁর মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ’ বলে কটাক্ষ করেন। একই সঙ্গে ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রমিলা জয়পাল। (Getty Images via AFP)
প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রমিলা জয়পাল। (Getty Images via AFP)

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই বিতর্কে আমেরিকার এক জনপ্রতিনিধির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারত-আমেরিকা কূটনৈতিক মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কী বলেছিলেন জয়পাল?

আমেরিকার ওয়াশিংটন রাজ্যের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য প্রামিলা জয়পাল ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই পদক্ষেপের সঙ্গে আমেরিকায় ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টার মিল রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, গণতন্ত্র রক্ষায় নাগরিকদের অবাধে ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

শুধু সমালোচনাই নয়, ভারতে গণতন্ত্রবিরোধী পদক্ষেপের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের পাশেও থাকার বার্তা দেন জয়পাল। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় নাগরিকদেরও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অধিকার রয়েছে। গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে অহিংস প্রতিবাদ গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পাল্টা বার্তা ভারতের

তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার দরজা বন্ধ করেননি কোয়াত্রা। জয়পালের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় বসতে তিনি প্রস্তুত বলেও জানান। তাঁর বক্তব্য, জয়পালের ভুল ধারণা দূর করতে আলোচনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ, ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বিদেশের কোনও জনপ্রতিনিধির মন্তব্য মেনে না নিলেও কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখতে চায় নয়াদিল্লি।

কত নাম বাদ পড়েছে?

নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসআইআরের প্রথম দুই পর্যায়ে ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৭.২ কোটি নাম বাদ পড়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে ১৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া তালিকায় আরও ৬.১৬ কোটি নাম বাদ যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, মৃত ভোটার, একাধিকবার নথিভুক্ত নাম, অন্যত্র চলে যাওয়া ব্যক্তি এবং অযোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করে তালিকা সংশোধন করাই এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য। তবে খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে চূড়ান্ত ভাবে ভোটাধিকার হারিয়েছেন, এমন নয়। প্রকৃত ভোটারদের নাম ভুলবশত বাদ পড়লে তাতে আপত্তি জানানোর প্রক্রিয়ায় এবং ছয় নম্বর ফর্ম জমা দিয়ে নাম তোলার সুযোগ রয়েছে।

ভোটার তালিকা নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে বিতর্কের মধ্যেই জয়পালের মন্তব্যকে ঘিরে এই চাপানউতর নতুন মাত্রা পেল। ভারতের বক্তব্য স্পষ্ট, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা দেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থার মধ্যেই বিবেচিত হওয়া উচিত। বিদেশি জনপ্রতিনিধির মন্তব্যের মাধ্যমে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks