ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে এবার উন্নত প্রযুক্তির হাত ধরতে চাইছে ওয়াশিংটন। আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর ভারত সফরের আগেই এ দেশে আসতে পারে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার গতি বাড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ গবেষণা এবং জৈবপ্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এর জন্য দুই দেশের মধ্যে চালু থাকা ‘ট্রাস্ট’ উদ্যোগকে নতুন করে সক্রিয় করতে চাইছে ভারত ও আমেরিকা। বুধবার হিন্দুস্তান টাইমস এই খবর জানিয়েছে।

এই সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, প্রযুক্তির দুনিয়ায় চিনের উপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে আমেরিকা। অন্য দিকে, উন্নত প্রযুক্তি উৎপাদন এবং গবেষণায় নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে উদ্যোগী ভারত। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হলে তা অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা, দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কী এই ট্রাস্ট উদ্যোগ?
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে ‘ট্রাস্ট’ কর্মসূচি চালু হয়। এর পুরো নাম ‘ট্রান্সফর্মিং দ্য রিলেশনশিপ ইউটিলাইজিং স্ট্র্যাটেজিক টেকনোলজি’। উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য।
বাইডেন প্রশাসনের আমলে এই ধরনের সহযোগিতার জন্য ‘আইসিইটি’ নামে একটি উদ্যোগ ছিল। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরে সেই উদ্যোগকে নতুন নামে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে গত দুই বছরে কর্মসূচিকে বাস্তবে কার্যকর করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমেরিকা প্রথমে নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সহযোগিতার বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা আলাদা ক্ষেত্রে কাজ করতে বেশি আগ্রহী ছিল। কিন্তু ভারতের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটন এখন এই উদ্যোগকে ফের সক্রিয় করার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
চারটি ক্ষেত্রে বিশেষ নজর
ট্রাস্ট কর্মসূচির চারটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। প্রথমত, ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিকাঠামো গড়ে তোলা। এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক অনুমতির মতো বিষয়গুলি নিয়ে দুই দেশ কাজ করতে পারে। আমেরিকার উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারতে এআই পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
{{/usCountry}}ট্রাস্ট কর্মসূচির চারটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। প্রথমত, ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিকাঠামো গড়ে তোলা। এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক অনুমতির মতো বিষয়গুলি নিয়ে দুই দেশ কাজ করতে পারে। আমেরিকার উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারতে এআই পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
{{/usCountry}}দ্বিতীয়ত, লিথিয়াম এবং বিরল মৃত্তিকা মৌলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও পুনর্ব্যবহারে সহযোগিতা বাড়ানো। আধুনিক প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে এই খনিজগুলির প্রয়োজন হয়।
তৃতীয়ত, সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করা। বিশেষ করে ওষুধ তৈরির প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ক্ষেত্রে চিনের উপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করবে দুই দেশ। পাশাপাশি, ভারতের জৈবপ্রযুক্তি ও ওষুধ শিল্পে আমেরিকার বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় থাকতে পারে। চতুর্থত, মহাকাশ গবেষণা, জৈবপ্রযুক্তি এবং জ্বালানির মতো ক্ষেত্রে শিল্প সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো।
রুবিও-অজিত ডোভালের বৈঠক ঘিরে নজর
প্রযুক্তিগত সহযোগিতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিও এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের মধ্যে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দুই পক্ষ। এর ফলে হোয়াইট হাউজ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সরাসরি সমর্থন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সহজ হতে পারে।
রুবিওর ভারত সফরে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা। তবে তাঁর আসন্ন সফরে ডোভালের সঙ্গে বৈঠক হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সব মিলিয়ে, প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের নতুন অধ্যায় তৈরির চেষ্টা চলছে। সেমিকন্ডাক্টর থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ ব্যবস্থা—একাধিক ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করতে পারলে দুই দেশই লাভবান হতে পারে। এখন দেখার, রুবিওর সফরের আগে মার্কিন প্রতিনিধিদলের আলোচনা সেই সহযোগিতাকে কতটা বাস্তব রূপ দিতে পারে।