মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে শুল্ক নিয়ে ধাক্কা খেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আবহে দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে তিনদিনের আলোচনায় বসার কথা ছিল দুই দেশের প্রতিনিধিদের। তবে আপাতত তা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির জন্য মার্চের সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল ভারত এবং আমেরিকা। তবে সেই ডেডলাইনের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হবে না বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, ২৩ ফেব্রুয়ারি ভারত এবং ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের আলোচনায় বসার কথা ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই 'সময় চেয়ে নিয়েছে'। এদিকে ইউরোপের সংসদের তরফ থেকেও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছে। ইউরোপীয় সংসদের বাণিজ্য প্রধান জানিয়েছেন, শুল্ক নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট ধারণা না দেওয়া পর্যন্ত সংসদে এই বাণিজ্য চুক্তি পাশ করানো হবে না। এদিকে মার্কিন বাণিদ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির দাবি করেছেন, আমেরিকা আশা করছে, তাদের পার্টনাররা বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে থাকবেন।
এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের পারস্পরিক শুল্ক নীতি আদতে বেআইনি। এবং এতদিন ধরে এই নীতিতে যত কর সংগ্রহ করা হয়েছে, তা ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেয় আদালত। আর সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের মাত্র ২৪ ঘণ্টা পরই বৈশ্বিক শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে মার্কিন কংগ্রেসকে এড়িয়ে নিজের সিদ্ধান্ত বিভিন্ন দেশের ওপর বিভিন্ন বারে শুল্ক চাপিয়েছিলেন। তবে জরুরি ক্ষমতার অধীনে ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপের পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে মার্কিন শীর্ষ আদালত। এরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প আদালতের এই সিদ্ধান্তকে 'হাস্যকর, দুর্বলভাবে লেখা এবং আমেরিকা বিরোধী' বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়া বিচারকদেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। একই সময়ে, তাঁর শুল্ক নীতির পক্ষে মত দেওয়া তিন বিচারপতির (ব্রেট কাভানা, ক্লারেন্স থমাস এবং স্যামুয়েল আলিটো) প্রশংসা করেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৭ সালের 'আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা' আইনের (আইইইপিএ) অধীনে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক চাপিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি এই আইনের বলে একতরফা ভাবে শুল্ক আরোপ করতে পারেন না। এই সিদ্ধান্তের অর্থ হল ভারত সহ অনেক দেশের উপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক আগের মতোই প্রায় ৩.৫ শতাংশে এ ফিরিয়ে আনতে হবে। যদিও ট্রাম্প ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে কংগ্রেসকে এড়িয়ে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের জন্য একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। আর একদিন যেতে না যেতেই সেই শুল্কের হার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছেন তিনি।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, ১৯৭৭ সালের 'আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা' আইনের (আইইইপিএ) অধীনে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক চাপিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি এই আইনের বলে একতরফা ভাবে শুল্ক আরোপ করতে পারেন না। এই সিদ্ধান্তের অর্থ হল ভারত সহ অনেক দেশের উপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক আগের মতোই প্রায় ৩.৫ শতাংশে এ ফিরিয়ে আনতে হবে। যদিও ট্রাম্প ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে কংগ্রেসকে এড়িয়ে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের জন্য একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। আর একদিন যেতে না যেতেই সেই শুল্কের হার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছেন তিনি।
{{/usCountry}}