বিশ্বে দ্রুত বদলে যাওয়া কৌশলগত পরিস্থিতির মধ্যে ভারতের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ (SIPRI)-এর ২০২৬ সালের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভারতের হাতে বর্তমানে প্রায় ১৯০টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে। একই সময়ে পাকিস্তানের ভাণ্ডারে রয়েছে প্রায় ১৭০টি ওয়ারহেড, ফলে সংখ্যার বিচারে ভারত কিছুটা এগিয়ে।

তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মূল কৌশলগত চ্যালেঞ্জ এখন আর শুধু পাকিস্তান নয়, বরং চীন। SIPRI-র হিসাব অনুযায়ী, চীনের হাতে বর্তমানে প্রায় ৬২০টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে এবং তাদের অস্ত্রভাণ্ডার বিশ্বের দ্রুততম হারে সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো, দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং শক্তিশালী সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে বেইজিং।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে ‘Credible Minimum Deterrence’ বা ন্যূনতম কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ নীতি অনুসরণ করে আসছে। অর্থাৎ প্রতিপক্ষকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দেওয়ার মতো সক্ষমতা বজায় রাখাই ভারতের লক্ষ্য, অস্ত্রের সংখ্যায় প্রতিযোগিতা নয়। কিন্তু চীনের দ্রুত আধুনিকীকরণের ফলে এই নীতি ভবিষ্যতে যথেষ্ট হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতও নিজের কৌশলগত সক্ষমতা বাড়ানোর পথে হাঁটছে। MIRV প্রযুক্তি, ক্যানিস্টারাইজড ক্ষেপণাস্ত্র, দীর্ঘ-পাল্লার Agni সিরিজের মিসাইল এবং সমুদ্রভিত্তিক পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক SIPRI রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারত প্রথমবারের মতো শান্তিকালেই কিছু পরমাণু ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে, যা দেশের পরমাণু কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের পরমাণু প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। কিন্তু চীনের ক্রমবর্ধমান অস্ত্রভাণ্ডার ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে ভবিষ্যতে শুধু ওয়ারহেডের সংখ্যা নয়, বরং ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, নির্ভুলতা, বেঁচে থাকার ক্ষমতা এবং সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাই ভারতের কৌশলগত শক্তির আসল মাপকাঠি হয়ে উঠবে।
{{/usCountry}}সাম্প্রতিক SIPRI রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারত প্রথমবারের মতো শান্তিকালেই কিছু পরমাণু ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে, যা দেশের পরমাণু কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের পরমাণু প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। কিন্তু চীনের ক্রমবর্ধমান অস্ত্রভাণ্ডার ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে ভবিষ্যতে শুধু ওয়ারহেডের সংখ্যা নয়, বরং ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, নির্ভুলতা, বেঁচে থাকার ক্ষমতা এবং সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাই ভারতের কৌশলগত শক্তির আসল মাপকাঠি হয়ে উঠবে।
{{/usCountry}}